মুক্তির মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিফাইভ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত বহুল চর্চিত ছবি ‘শতলুজ’ । আর সেই ‘শতলুজ’ বা ‘শতদ্রু’র জল এবার গড়াল অনেক দূর। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের অবাধ স্বাধীনতায় লাগাম টানতে এবার চরম পদক্ষেপের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। ছবি ও ওয়েব সিরিজ সরাসরি ওটিটি-তে মুক্তির আগে এবার সিনেমা হলের মতোই সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে বলে মন্ত্রক সূত্রে খবর।ডিজিটাল দুনিয়ার এই ‘সীমাহীন’ স্বাধীনতাকে নিয়মের বেড়াজালে বাঁধতে সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Rules)-ও সংশোধন করতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
পাঞ্জাবের উগ্রপন্থা ও অশান্ত দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিটির আসল নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’। পাঞ্জাবের মানবাধিকার কর্মী জসবন্ত সিং খালরার জীবনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য ছাড়পত্র চাইতে গেলে সেন্সর বোর্ড এতে রেকর্ড ১২৭টি কাটের নির্দেশ দেয়। যা নিয়ে দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চালান নির্মাতারা।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আশা ছেড়ে গত ৩রা জুলাই কোনও কাটছাঁট ছাড়াই ‘শতলুজ’ নামে নতুন শিরোনামে ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিফাইভ-এ সরাসরি রিলিজ করে দেওয়া হয়। ওটিটি যেহেতু এখনও সেন্সর বোর্ডের এক্তিয়ারের বাইরে, তাই নির্মাতারা এই স্বাধীনতার সদ্ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু ৩রা জুলাই মুক্তির পর কয়েকদিনের মধ্যেই কেন্দ্রের নির্দেশে ছবিটিকে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সরকারি সূত্রের কড়া হুঁশিয়ারি, সিবিএফসি-র শংসাপত্র ছাড়া কোনও ছবি স্ক্রিন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ছবিটির আনসেন্সর্ড সংস্করণ ওটিটিতে স্ট্রিম করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারে।এর পাশাপাশি, দেশের ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বিঘ্নিত করার আশঙ্কায় জিফাইভ প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক।
বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো স্ব-নিয়ন্ত্রণ নীতি মেনে চলে এবং দর্শকদের বয়স অনুযায়ী সতর্কবার্তা প্রচার করে। কিন্তু এই নিয়মে সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্র। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী এল মুরুগান আগেই ক্ষোভপ্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো স্ব-নিয়ন্ত্রণ নীতি সঠিকভাবে মেনে চলছে না— এমন ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়ছে সরকারের কাছে।
যদি সত্যিই আইটি অ্যাক্ট সংশোধন করে সমস্ত ওটিটি কনটেন্টকে সেন্সর বোর্ডের অধীনে নিয়ে আসা হয়, তবে তা ভারতীয় সিনেমা ও সিরিজের নির্মাতাদের জন্য এক বিরাট ধাক্কা হতে চলেছে। ‘সেন্সরশিপ’-এর খাঁড়া এড়াতে যে সমস্ত পরিচালক সরাসরি ওটিটি-র শরণাপন্ন হতেন, তাঁদের সেই শেষ আশ্রয়ের দরজাও এবার বন্ধ হওয়ার মুখে।
















