বছর দুই আগে মুক্তি পাওয়া একটি ওয়েব ফিল্মকে কেন্দ্র করে হঠাৎই উত্তাল টলিউড। কাঠগড়ায় পরিচালক অরিন্দম শীল এবং তাঁর ছবি ‘উনিশে এপ্রিল’। অভিযোগ— এই ছবির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে প্রবাদপ্রতিম পরিচালক-অভিনেত্রী অপর্ণা সেনকে। বর্তমানে যখন নেটপাড়ায় এই নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন রুখে দাঁড়ালেন নাট্যব্যক্তিত্ব তথা অপর্ণা সেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহাগ সেন। মুখ খুলেছেন খোদ অরিন্দম শীল-ও। 

 

ঘটনাটি ১৯৭৬ সালের। দক্ষিণ কলকাতার সম্ভ্রান্ত গুহ পরিবারের গৃহবধূ সুরূপা গুহর রহস্যমৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল তিলোত্তমাকে। সেই ঘটনার ছায়া অবলম্বনেই দু’বছর আগে ‘ফ্রাইডে’ ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য ‘উনিশে এপ্রিল’ ছবিটি তৈরি করেছিলেন অরিন্দম শীল। কিন্তু হঠাৎই অভিযোগ উঠেছে, ওই ছবিতে নাকি অপর্ণা সেনের মানহানি করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে কদর্য ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে ক্ষোভ উগরে দেন প্রবীণ অভিনেত্রী সোহাগ সেন। তিনি জানান, জনৈক মহলে রটেছে যে অরিন্দম নাকি সুরূপা গুহর আত্মহত্যার ঘটনায় অপর্ণা সেনের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোহাগ সেনের বয়ান অনুযায়ী, “যে মানুষটির (অপর্ণা সেন) প্রতি অরিন্দমের অগাধ শ্রদ্ধা, তাঁকে তিনি কখনওই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করবেন না। এটি একটি কাল্পনিক থ্রিলার ছিল এবং সেখানে অপর্ণার মতো কোনও চরিত্রই ছিল না।”

 

 

 

 

সোহাগ সেন আরও স্পষ্ট করে দেন যে, সুরূপার স্বামী ইন্দ্রনাথ গুহ ছিলেন তাঁর ভাই সঞ্জয় সেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পরবর্তীকালে সঞ্জয় সেনের সঙ্গেই অপর্ণা সেনের বিবাহ হয়। ইন্দ্রনাথ ও অপর্ণার সম্পর্ক ছিল নিতান্তই সৌজন্যমূলক। তাই এমন ‘নোংরা ও কদর্য’ গুজব ছড়ানো বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, “কে বা কারা এহেন বিষোদগারে লিপ্ত হয়েছেন জানা নেই, কিন্তু বিষয়টি মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়।”


বিষয়টি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন স্বয়ং পরিচালকও। অরিন্দম জানান, তিনি সোহাগ সেনের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। তাঁর কথায়, “‘উনিশে এপ্রিল’ সুরূপা গুহর ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও, তিনি বা তাঁর প্রযোজকের কেউই এমন কোনও চরিত্র সৃষ্টির কথা ভাবিনি যা 'রিনাদি'কে (অপর্ণা সেন) কলঙ্কিত করতে পারে। অরিন্দমের কথায়, “রিনাদির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এই ধরণের ট্রোলিং অত্যন্ত অশালীন।”


ছবিটি দু’বছর আগে মুক্তি পেলেও কেন এখন এই বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠল, তা নিয়ে ধন্দ রয়েই গিয়েছে। ১৯৭৬-এর সেই তদন্তে বন্ধু হিসেবে অপর্ণা সেনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ঠিকই, কিন্তু সিনেমার মাধ্যমে সেই স্মৃতি উসকে দিয়ে কোনও কদর্য ইঙ্গিত করা হয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন দ্বিধাবিভক্ত টলিপাড়া।