গজল হোক বা ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীত, যাঁর কণ্ঠের জাদুতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর আবিষ্ট, তিনি হরিহরণ। ৩ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেছিলেন হরিহরণ অনন্ত সুব্রমণি। কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পীর জন্মদিনে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল এই প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পী অন্বেষা দত্ত গুপ্তর সঙ্গে। হরিহরণ এর সঙ্গে একই মঞ্চে গান গেয়েছেন অন্বেষা৷
হরিহরণের গানের কোন দিকটা সবচেয়ে বেশি ভাললাগে অন্বেষার? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে অন্বেষা জানান, "হরিহরণ একজন কিংবদন্তী শিল্পী৷ আমাদের দেশের মধ্যে তো বটেই, বিশ্বেও তাঁর প্রতিভার স্ফূরণ। আমি ওঁর গান শুনে বড় হয়েছি৷ হরিহরণের গানের সবথেকে ভাললাগার বিষয় ওঁর এফর্টলেস সিংগিং। দীর্ঘদিনের সঙ্গীতসাধনা এবং নিরলস রেওয়াজের জন্যই হরিহরণ এতটা অনায়াসে গান গাইতে পারেন৷ একজন রেওয়াজি শিল্পীর গান, তাঁর গায়কীর মধ্যে যে শিক্ষার প্রতিফলন থাকে, দীর্ঘ দিনের তালিম যে সাঙ্গীতিক ঋদ্ধতা দেয় তা অতুলনীয়।"
গজল গাওয়ার ক্ষেত্রে হরিহরণ নিজস্ব এক শৈলী তৈরি করেছেন৷ চিরাচরিত ধারাকে বজায় রেখেও পুরাতন আর নতুনের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন হরিহরণ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মিশেল কতটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন অন্বেষা, প্রশ্ন করেছিল আজকাল ডট ইন।
অন্বেষা বলেন, "প্রত্যেকটা জঁর- এর নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে৷ সেই স্বকীয়তা বজায় রেখেই আমার মনে হয় একজন শিল্পী তাঁর শিল্পবোধ এবং শিক্ষার মাধ্যমে নতুন ভাবে সেই জঁরকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন৷ হরিজি শুধুমাত্র যে সিনেমার গান গেয়েছেন তা তো নয়, আবার শুধুই গজল গেয়েছেন এমনটা নয়৷ হরিজির সঙ্গীতপ্রতিভার বিস্তার সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারায়৷ তাঁর করা বিভিন্ন ফিউশন অ্যালবাম আমরা শুনেছি৷ সেই মানুষটাই যখন বসে গজল গান, আমি বহুবার ওঁর লাইভ কনসার্ট শুনেছি গজলের, সেখানে চিরাচরিত গজলের গায়কী বজায় রেখেও এমন অনেক নতুন কিছু বৈশিষ্ট্য হরিজি গজলের মাধ্যমে শ্রোতাদের উপহার দিয়ে থাকেন, সেটা আমার মনে হয় সঙ্গীতের যে কোনও ধারাকে আরও সমৃদ্ধ এবং প্রাসঙ্গিক করে তোলে৷ বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীরা একটা বিশেষ জঁরকে একইভাবে গাইবেন তা তো হয় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্তন হয়৷ রবীন্দ্রনাথের গান আমার মা যেভাবে দেখেছেন আমি বা আমার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গানের অনুভব কিন্তু বদলেছে। আমার ব্যক্তিগতভাবে কিছু বিষয়ে চিরাচরিত ধারাটাই ভাল লাগে। কিন্তু হরিজি গজলের ক্ষেত্রে যে নতুন আঙ্গিক এনেছেন, তা আমার মনে হয় আমার মতো বহু তরুণ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে৷"

হরিহরণ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অন্বেষা বলেন, "উনি ভীষণ 'আনপ্রেডিক্টেবল'। তুহি রে গাইতে গিয়েও এমন নতুন কিছু একটা করতে পারেন, যা ইউনিক। আবার একটা গজলের কনসার্টেও একইভাবে নতুন কিছু করতে পারেন৷ এটাই হরিজি। আমি নিজেও ওঁর গানের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছি৷"
হরিহরণের সঙ্গে একই মঞ্চে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন, সেই প্রশ্নের উত্তরে অন্বেষা বলেন, "আমার সৌভাগ্য যে হরিহরণজির সান্নিধ্য আমি পেয়েছি। যখনই কোনও অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে, উনি আমাকে যে স্নেহ দিয়েছেন তাঁর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার সৌভাগ্য হয়েছে একসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার৷ বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সৌরেন্দ্র সৌম্যজিৎদার উদ্যোগে একই মঞ্চে আমি আর হরিজি গান গেয়েছি। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি৷ ওঁর মতো মানুষের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া আমার মতো নবীন শিল্পীর কাছে সৌভাগ্যের৷ সব থেকে ভাললাগার বিষয় আমি এত ছোট তারপরেও আমার সম্পর্কে ওঁর যে স্নেহ যে পারস্পরিক সম্মানবোধ তা সত্যিই আলাদা৷ দেখা হলেই গান নিয়ে নানারকম আলোচনা হয়৷ শেষবার একটা মিউজিক লঞ্চে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল হরিজির, উনি সবসময় যে উষ্ণ স্বাগত জানান আমাকে সেটা সত্যিই ভাললাগার বিষয়। এই ভালবাসা সিনিয়রদের থেকে পাওয়াটাও আমার মতো জুনিয়রের কাছে একটা সৌভাগ্য৷"
প্রসঙ্গত, বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে লতা মঙ্গেশকরকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের জন্য সৌরেন্দ্র সৌম্যজিৎ 'রহে না রহে হাম' গানটিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছিলেন৷ সেখানেই একই মঞ্চে রাহে না রাহে হাম গানটিতে হরিহরণ এবং অন্বেষা গলা মেলান। তাঁরা ছাড়াও এই গানটিতে গলা মিলিয়েছিলেন উস্তাদ রাশিদ খান, ঊষা উত্থুপ, শুভমিতা ব্যনার্জি, পাপন, শুভা মুদগল সহ অন্যান্য শিল্পীরা৷















