টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ ধারাবাহিক এবং অভিনেত্রী শিল্পা শিন্ডের সংঘাত। সম্প্রতি এক পডকাস্টে শিল্পা স্বীকার করেছিলেন যে, প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির বিরুদ্ধে তাঁর আনা যৌন হেনস্থার অভিযোগটি সম্পূর্ণ 'মিথ্যে' ছিল। এবার রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’ -এর মঞ্চে ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী হিসেবে এন্ট্রি নিয়েই এই ইস্যু খোদ নিজের সপক্ষে সওয়াল করলেন পর্দার প্রাক্তন ‘অঙ্গুরি ভাবি’। তাঁর দাবি— এই মিথ্যে মামলার ৯ বছর পর ওই প্রযোজক নাকি শো-তে ফেরার জন্য তাঁর কাছে আক্ষরিক অর্থেই ‘ভিক্ষা’ করেছিলেন!
‘লক আপ’-এর সাম্প্রতিক পর্বে সহ-প্রতিযোগী যোগেশ রাওয়াত এবং রিয়াজ আলির মুখোমুখি হন শিল্পা। যোগেশ ও রিয়াজ দুজনেই শিল্পাকে মনে করিয়ে দেন যে, এই ধরণের ভুয়ো অভিযোগ একজন পুরুষের জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে।
সহ-প্রতিযোগীদের এই আক্রমণের মুখে বিন্দুমাত্র অপরাধবোধ না দেখিয়ে শিল্পা পাল্টা গর্জে ওঠেন। তিনি বলেন, “আমি আইনের অপব্যবহার করিনি, আইনকে ব্যবহার করেছি। আজ আপনারা বলছেন আমি নিজের সুবিধার্থে আইনকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে আমার দিকে টেনেছি? একটা মেয়ে মরে যাওয়ার পর আপনারাই মোমবাতি জ্বালিয়ে বলেন— মেয়েটা নিজের জন্য লড়ল না কেন! ওই প্রযোজক এখন আমার সঙ্গে ভাল আচরণ করে। ৯ বছর পর ও আমার কাছে অনুনয়-বিনয় করে আমাকে শো-তে ফিরিয়ে এনেছে। কেন এনেছে?” বিতর্ক থামাতে না পেরে শেষমেশ যোগেশকে ‘বাচ্চা ছেলে’ বলে কটাক্ষ করেন শিল্পা।
ভারতী সিং এবং হর্ষ লিম্বাচিয়ার পডকাস্টে শিল্পা এই বিষয়ে খোলসা করে বলেছিলেন, তাঁর আইনি ব্যাকগ্রাউন্ড থাকায় তিনি জানতেন এই ধরনের অভিযোগের গুরুত্ব কতটা। কিন্তু সেই সময় ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত দরজা তাঁর জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বকেয়া টাকা আদায় এবং নিজের কেরিয়ার বাঁচাতে বাধ্য হয়েই তিনি এই চরম পথ বেছে নেন। পরবর্তীতে আদালতের বাইরে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টি মিটে যায় এবং চুক্তি অনুযায়ী দুজনেই এই বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
জনপ্রিয় এই সিটকম-এ ‘অঙ্গুরি ভাবি’-র চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন শিল্পা। তাঁর সংলাপ বলার নিজস্ব কায়দা দর্শকদের মন কেড়েছিল। তাঁর প্রস্থানের পর শুভাঙ্গি আত্রে এই চরিত্রে আসেন। তবে সমস্ত আইনি লড়াই ও বিতর্কের মেঘ কাটিয়ে দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারও সেই চেনা ‘অঙ্গুরি ভাবি’ রূপেই শো-তে কামব্যাক করেছেন শিল্পা শিন্ডে। আর ফেরার পরেই তাঁর এই বিস্ফোরক দাবি নতুন করে তোলপাড় ফেলল বিনোদন দুনিয়ায়।
এক নজরে ‘ভাবিজি’ বিতর্ক:
২০১৬ সাল: পারিশ্রমিক না পাওয়া ও অপেশাদারিত্বের অভিযোগে শো ছাড়েন শিল্পা।
২০১৭ সাল: প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মামলা দায়ের।
আউট-অফ-কোর্ট সেটেলমেন্ট: আদালতের বাইরে বিষয়টির মীমাংসা হয়, বকেয়া টাকা পান শিল্পা।
২০২৬ সাল: শিল্পার স্বীকারোক্তি— দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াতেই মিথ্যে মামলা করেছিলেন তিনি।















