অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির স্বামী রাজ কুন্দ্রা ফের শিরোনামে আসেন। এবার অভিযোগ উঠেছে ৬০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায়। ব্যবসায়ী কুন্দ্রাকে সোমবার মুম্বইয়ের ইকনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)-এর মুখোমুখি হতে হতে পারে। এর আগে তাঁকে তলব করা হলেও তিনি কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। সংস্থাটি তাদের ভ্রমণ নথি যাচাই করার পর রাজ এবং শিল্পার, উভয়ের বিরুদ্ধেই লুকআউট নোটিশ জারি করেছে।
২০২৫ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী দীপক কোঠারির অভিযোগের ভিত্তিতে ইকনমিক অফেন্সেস উইং (EOW) রাজ কুন্দ্রা, শিল্পা শেট্টি এবং আরও এক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। কোঠারির দাবি, তিনি দম্পতির এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া সংস্থা বেস্ট ডিল টিভি প্রা. লি.-তে ঋণ–সহ–বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে ৬০ কোটিরও বেশি টাকা দিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য তিনি অর্থ বিনিয়োগ করেন, কিন্তু সেই টাকা ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করা হয়। এই অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে ইকনমিক অফেন্সেস উইং।
শিল্পা এবং রাজ অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন। তাঁদের আইনজীবী প্রশান্ত পাটিল একে ‘ভিত্তিহীন ও কুৎসামূলক’ বলে দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন যে বিষয়টি সম্পূর্ণ ‘সিভিল ইন নেচার’ , যা ইতিমধ্যেই এনসিএলটি-তে নিষ্পত্তি হয়েছে।
পাটিলের বক্তব্য, “এটি একটি বহু পুরনো লেনদেন, যেখানে সংস্থাটি আর্থিক সঙ্কটে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এনসিএলটি তে। এখানে কোনও অপরাধমূলক বিষয় নেই। আমাদের অডিটররা সময়ে সময়ে সব প্রয়োজনীয় নথি, যার মধ্যে বিশদ ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্টও রয়েছে, ইকনমিক অফেন্সেস উইং -কে জমা দিয়েছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যে বিনিয়োগ চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, সেটি আসলে ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই লিকুইডেশনের আদেশ পেয়েছে, যা পুলিশের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে আমাদের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ১৫ বারেরও বেশি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে প্রমাণ হাজির করেছেন।” আইনজীবী জোর দিয়ে বলেন, তাদের পক্ষ থেকেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ এবং শিল্পার বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি হয়েছিল। অভিযোগ, তারকা-দম্পতি তাঁদের এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া সংস্থা বেস্ট ডিল টিভি প্রাইভেট লিমিটেড-এর নামে বিনিয়োগের চুক্তি দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
ব্যবসায়ী দীপক কোঠারির অভিযোগ, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ওই দম্পতি তাঁদের ব্যবসা বাড়ানোর নাম করে তাঁর কাছ থেকে ৬০ কোটি টাকা নেন। কিন্তু সেই টাকা আসলে ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করেন। আরও অভিযোগ, তাঁরা টাকা ঋণ হিসেবে নিলেও পরে সেটিকে বিনিয়োগ হিসাবে দেখানো হয়, যাতে ট্যাক্স বাঁচানো যায়।
কোঠারির দাবি, তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১২% বার্ষিক সুদ-সহ টাকা ফেরত দেওয়া হবে এবং ২০১৬ সালের এপ্রিলে শিল্পা ব্যক্তিগতভাবে লিখিত গ্যারান্টিও দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই শেট্টি সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দেন।
ব্যবসায়ী আরও জানান, পরে তিনি জানতে পারেন যে ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে ১.২৮ কোটি টাকার দেউলিয়া মামলা ইতিমধ্যেই চলছিল, যার বিষয়ে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি।
