একজন তাঁর সুরেলা কণ্ঠ, একের পর এক হিট গানের জন্য জনপ্রিয়, আর একজন তাঁর ক্যারিশমা, অভিনয়ের গুণের জন্য। কথা হচ্ছে শান এবং শাহরুখ খানের। সম্প্রতি এ হেন গায়ক জানালেন, এমন খুব কম সময় বা ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন তিনি যেখানে আবেগঘন ভক্তরা তাঁকে নিয়ে উন্মাদনায় মেতে উঠেছে, বা তাঁকে ছেঁকে ধরে, হইচই ফেলেছে, যেমনটা সাধারণত তারকাদের সঙ্গে হয়। তবে একবার এমন ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন তিনি। 

শান সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, একবার তাঁকে কিছু স্কুল পড়ুয়া ছেঁকে ধরে। আবেগ, উন্মাদনায় ভাসতে থাকে তারা। পরে গায়ক জানতে পারেন, তিনি ক্ষণিকের জন্য যে ঘটনার সাক্ষী রইলেন, সেটা আদতে তাঁর জন্য ছিলই না। আসলে ওই ছেলেমেয়েগুলো তাঁকে শাহরুখ খান ভেবে ভুল করেছিল! 

সেই ঘটনার স্মৃতি হাতড়ে এদিন শান বলেন, 'নতুন গাড়ি ছিল আমার, মারুতি ৮০০। পেট্রোল ভরানোর জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। ওঁরা বলেছিলেন গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ানোর জন্য, ফলে আমি গাড়ির বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেই সময় হঠাৎই একদল স্কুল পড়ুয়া এসে আমায় ঘিরে ধরে, হইচই ফেলে দেয়। তারপর স্কুল বাসে ফিরে যায়।'

তাঁর আরও সংযোজন, 'ওরা যখন বাসে ফিরে যাচ্ছে তখন আমি শুনতে পাই ওরা নিজেদের মধ্যেই বলাবলি করছে যে আমায় শাহরুখ খান ভেবে ভুল করেছে। ওরা মুম্বইয়ের বাসিন্দা ছিল না মনে হয়, তাই হয়তো জানত না ওঁর মতো অমন একজন ব্যক্তিত্ব এভাবে নিজের গাড়িতে পেট্রোল ভরাতে আসবেন না। একজন কেউ ভুল করেছিল বাচ্চাগুলোর মধ্যে, তার কথা শুনে বাকিরাও এসেছিল। পরে বোঝে যে কিছু একটা গণ্ডগোল হচ্ছে। ততক্ষণ অবধি আমি ভাবছিলাম, আমার সঙ্গে এসব কী হচ্ছে? এই পাগলামি কী? ব্যাপারটা ক্ষণিকের জন্য হয়েছিল, কিন্তু ভাল লেগেছিল।' 

তবে এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, শান শাহরুখ খানের হয়ে একাধিক ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন, উপহার দিয়েছেন একাধিক কালজয়ী গান। তালিকায় আছে 'ম্যায় হুঁ ডন', 'কুছ তো হুয়া হ্যায়', 'দস্তানে ওম শান্তি ওম', 'দিওয়াঙ্গি দিওয়াঙ্গি', 'আঁখে খুলি', ইত্যাদির মতো গান। ১৯৯০ এর শেষ থেকে ২০০০ -এর গোড়ার দিকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছন শান। তাঁর ঝুলিতে আসে বহু হিট গান। কখনও শাহরুখ, কখনও আমির, তো কখনও রণবীর কাপুর বা অন্য কারও হয়ে প্লেব্যাক করেছেন ছবিতে। সম্প্রতি তিনি 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল' ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। সেই ছবির টাইটেল ট্র্যাক গেয়েছেন।