রণবীর কাপুর ও সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার প্রথম যুগলবন্দিই বদলে দিয়েছিল বলিউডের বক্স অফিসের সমীকরণ। ২০২৩-এ মুক্তি পাওয়া ‘অ্যানিম্যাল’ শুধুই এক হাইপার-ভায়োলেন্ট অ্যাকশন ড্রামা ছিল না। একইসঙ্গে ছিল বাবা-ছেলের বিষাক্ত সম্পর্কের এক অস্বস্তিকর, তীব্র মনস্তাত্ত্বিক পাঠ। ছবির বিপুল সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই এ ছবির সিক্যুয়েল ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। আর সেই উত্তেজনাতেই নতুন ইন্ধন জোগালেন রণবীর কাপুর ও পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙা। জাপানে ‘অ্যানিম্যাল’-এর স্ক্রিনিংয়ের আগে দর্শকদের সঙ্গে তাঁদের আলাপচারিতায় উঠে এল ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’ নিয়ে বড় ঘোষণা।
১৩ ফেব্রুয়ারি জাপানে মুক্তির আগে ‘অ্যানিম্যাল’-এর বিশেষ স্ক্রিনিংয়ে হাজির ছিলেন রণবীর ও ভাঙ্গা। সেখানেই সিক্যুয়েল নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন দু’জনেই। রণবীর স্পষ্ট করে জানালেন, এই চরিত্রে ফিরতে তিনি অধীর অপেক্ষায়। অভিনেতার কথায়, “আমি আবার সন্দীপের সঙ্গে শুটিং সেটে ফিরতে মুখিয়ে আছি। এবার শুধু একটাই চরিত্র নয়, আরও একটি চরিত্র রয়েছে। যেহেতু এটা চলমান গল্প, অর্থাৎ ‘অ্যানিম্যাল’-এর গল্পটাই টানা চলবে তাই পার্ট ওয়ান শুট করার সময়ই ওর মাথায় পার্ট টু-এর গল্প পরিষ্কার ছিল। একজন অভিনেতা হিসেবে এটা আমার কাছে ভীষণই রোমাঞ্চকর। এবং ততটাই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা দু’জন নিয়মিত কথা বলি, নানা আইডিয়া নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে।”
সিক্যুয়েলের ভাবনা আরও স্পষ্ট করলেন সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা নিজেই। তাঁর কথায়, ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’ শুরু হবে বর্তমান ছবির কাজ শেষ হলেই। পরিচালক জানান, “এবার আরও ‘অ্যানিম্যাল’ থাকবে। আজিজ নিজেই আরেকটা অ্যানিম্যাল। সব মিলিয়ে এবার যুদ্ধ হবে - দেখতে একরকম এমন দুই ভাইয়ের মধ্যে। তাই ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’ নামটাই সবচেয়ে মানানসই মনে হয়েছে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি শুট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।” এই মুহূর্তে ভাঙ্গা ব্যস্ত তাঁর পরবর্তী ছবি ‘স্পিরিট’ নিয়ে, যেখানে মুখ্যভূমিকায় রয়েছেন প্রভাস।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘অ্যানিম্যাল’-এ রণবীর কাপুরের রণবিজয় বিজয় সিং চরিত্রটি গড়ে উঠেছিল শৈশবের ট্রমা ও বাবার সঙ্গে মানসিক দূরত্বের ছায়ায়। অনিল কাপুর অভিনীত বাবার সঙ্গে সেই টানাপোড়েনই ছবির আবেগের মূল সুর। বিশ্বজুড়ে ৯০০ কোটিরও বেশি আয় করে ছবিটি প্রমাণ করে দেয় বিতর্ক সত্ত্বেও দর্শক এই গল্প গ্রহণ করেছে।
জাপানের সেই মঞ্চেই সন্দীপ রেড্ডি ভাঙার সঙ্গে নিজের বন্ধুত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন রণবীর। অভিনেতার কথায়, “ওর আগের কাজ আমি দেখেছিলাম এবং দারুণ লেগেছিল। তেলুগুতে একটা ছবি, তারপর হিন্দিতে। প্রথম দেখা থেকেই ওকে আলাদা লেগেছিল। মানুষ হিসেবে ওকে যেমন ভাল লেগেছে তেমনই ও যে গল্পটা বলতে চাইছিল, সেটার সঙ্গেও।”রণবীর আরও যোগ করেন,“বাইরে থেকে ছবিটা খুব রক্তাক্ত, অ্যাকশন-ভিত্তিক মনে হতে পারে। কিন্তু আসল আবেগটা বাবা-ছেলের সম্পর্ক নিয়ে। আমাদের প্রজন্মের অনেক পুরুষই বাবার সঙ্গে একটা দূরত্ব নিয়ে বড় হয়েছে। সেই গভীর অনুভূতির সঙ্গেই আমি সবচেয়ে বেশি কানেক্ট করেছি। আমার কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ছবি এটা।”
এদিকে কাজের দিক থেকেও রণবীরের ক্যালেন্ডার ঠাসা। সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘লভ অ্যান্ড ওয়ার’। ছয়ের দশকের প্রেক্ষাপটের এই পিরিয়ড ড্রামায় আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশলের সঙ্গে জুটি বাঁধতে চলেছেন তিনি। পাশাপাশি, নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’-এ রামের চরিত্রেও তাঁকে দেখা যাবে এই বছরই।
সব মিলিয়ে, ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’ যে শুধু সিক্যুয়েল নয় বরং আরও বড়, আরও হিংস্র, আরও মনস্তাত্ত্বিক সংঘাতের মঞ্চ, সে ইঙ্গিত কিন্তু স্পষ্ট। রণবীর-সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার জুটির পরবর্তী অধ্যায় ঘিরে বলিউডে এখন নিঃসন্দেহে চড়ছে উত্তেজনার পারদ।
