গত কয়েকদিন ধরে দুশ্চিন্তার মেঘ জমেছিল খান পরিবারে। বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন অগণিত অনুরাগী। তবে অবশেষে স্বস্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রবীণ এই ব্যক্তিত্বের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং খুব সম্ভবত চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলিউডের বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার সেলিম খান। ৯০ বছরের প্রবীণ ব্যক্তিত্বের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছড়ায়। মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতাল-এর আইসিইউতে রাখা হয় সলমন খানের বাবাকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর পাওয়া যায়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে সেলিম খানের জটিলতা বেড়েছিল। তবে বর্তমানে তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে।

চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাঁর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেলিম খান চিকিৎসায় ভাল সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর ভাইটাল প্যারামিটারগুলো এখন স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই, মূলত নিয়মিত চেক-আপ এবং বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার কারণেই তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এখন তিনি অনেক সুস্থ বোধ করছেন এবং স্বাভাবিক কথাবার্তাও বলছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব ঠিক থাকলে দুই-তিন দিনের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

সেলিম খান কেবল একজন সফল চিত্রনাট্যকার নন, তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক মাইলফলক। জাভেদ আখতারের সঙ্গে তাঁর জুটি ‘শোলে’, ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছে। সেলিম-জাভেদ জুটির হাত ধরেই বলিউডে অমিতাভ বচ্চনের ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ ইমেজের জন্ম হয়েছিল। কর্মজীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি এক আদর্শ অভিভাবক হিসেবে পরিচিত।

তাঁর আরোগ্য কামনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়ছে অনুরাগীদের বার্তা। সলমন-ভক্তরাও তাঁদের ‘ভাইজান’-এর বাবার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে এখন কেবল 'সেলিম সাহেব'-এর ফেরার অপেক্ষা। বর্ষীয়ান এই চিত্রনাট্যকারের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার খবরে বলিপাড়ার অন্দরেও স্বস্তির হাওয়া বইছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাড়ি ফেরার পর কয়েক দিন তাঁকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে এবং খাদ্যাভ্যাসে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। খান পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সলমন নিজেও এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই গীতিকার ও লেখক জাভেদ আখতার সেলিম খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "সেলিম এখন চেয়ারে বসতে পারছেন, কথা বলছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা চলছেই এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশে রয়েছেন।"