সোমি আলি জানিয়েছেন যে, তিনি সালমান খানকে ‘ব্ল্যাকবাক’ (কৃষ্ণসার হরিণ) শিকারের ঘটনায় ক্ষমা চাইতে অনুরোধ করেছিলেন। বিষ্ণোই সম্প্রদায়কেও বলিউডের ভাইজানকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সোমি আলি দাবি করেন, “আমি সালমান খানকে মেসেজ করে কৃষ্ণসার হরিণের মৃত্যুর ঘটনায় বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলাম, কিন্তু ও আমার কথা শোনেনি।” তিনি আরও জানান যে, তিনি বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছিলেন, যেন সলমানকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়৷
সলমন খানের কৃষ্ণসার (Blackbuck) হরিণ শিকার মামলা বলিউডের অন্যতম আলোচিত আইনি বিতর্ক। ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে রাজস্থানের যোধপুরে 'হাম সাথ সাথ হ্যায়' ছবির শুটিং চলছিল। অভিযোগ, সেই সময় গভীর রাতে যোধপুরের কাঁকানি গ্রামের কাছে দুটি সংরক্ষিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করা হয়। অভিযোগের তির ছিল সালমন খানের দিকে। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সইফ আলি খান, সোনালি বেন্দ্রে, টাবু এবং নীলম।
কেন এত বড় বিতর্ক?
রাজস্থানের বিশ্নোই (Bishnoi) সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন এবং প্রাণী সংরক্ষণে তাঁদের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্নোই সমাজের সদস্যরা ২ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর থেকেই মামলাটি জাতীয় আলোচনায় উঠে আসে।
১২ অক্টোবর ১৯৯৮ সালমন খান গ্রেফতার হন। কয়েক দিন পর জামিন পান। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন (Wildlife Protection Act)-এর অধীনে মামলা হয়। পাশাপাশি অস্ত্র আইনের অধীনেও একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
১০ এপ্রিল ২০০৬ নিম্ন আদালত সালমন খানকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। পরে উচ্চ আদালতে সেই সাজা স্থগিত হয় এবং আইনি লড়াই চলতে থাকে। ৫ এপ্রিল ২০১৮ যোধপুরের একটি আদালত আবারও সালমন খানকে কৃষ্ণসার শিকার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করে। একই মামলায় অভিযুক্ত সইফ আলি খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলম প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পান।
সালমন দু'দিন যোধপুর কেন্দ্রীয় জেলে থাকার পর জামিন পান এবং পরে উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি৷
এই মামলার জেরেই গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোই ও তার দল বহুবার সালমন খানকে হুমকি দিয়েছে। বিশ্নোই সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, কৃষ্ণসার হরিণ শিকার তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
১৯৯০-এর দশকে সোমি আলি ও সালমন খান সম্পর্কে ছিলেন। কৃষ্ণসার শিকার কাণ্ডের সময়ও তাঁদের সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়৷ বিচ্ছেদের পর সোমি একাধিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, শিকারের ঘটনার কথা তিনি সালমনের কাছ থেকেই শুনেছিলেন। তাঁর দাবি, সালমন নাকি তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি একটি হরিণকে গুলি করেছিলেন।
সোমি আরও দাবি করেছিলেন, তিনি সালমনকে বিশ্নোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। তাঁর মতে, ক্ষমা চাওয়া হলে বিতর্ক অনেকটাই মিটে যেতে পারত।
২০২৪ সালে লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের তরফে সালমন খানকে হুমকি দেওয়ার পরও সোমি আলি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। তিনি বিশ্নোই সম্প্রদায়ের কাছে সালমনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন। তবে সালমন খান বা তাঁর টিম কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি সমর্থন করেননি।
















