বিনোদন দুনিয়ার তারকাদের ঝাঁ চকচকে জীবনের নেপথ্যে যে কত শত না-বলা গল্প থাকে, তার আরও এক প্রমাণ দিলেন জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়িকা জ্যাসমিন স্যান্ডলাস। সম্প্রতি বহুল চর্চিত ছবি 'ধুরন্ধর'-এর ‘জায়ে সাজনা’ গান গেয়ে লাইমলাইটে আসা এই গায়িকা নিজের জীবনের এক চরম রূঢ় বাস্তবকে সামনে এনেছেন। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের এই তারকা অকপটে জানিয়েছেন, ছোটবেলায় প্রথম ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড হওয়ার পর চরম আতঙ্কে দিন কেটেছিল তাঁর। এমনকি অজ্ঞতার কারণে সেই রক্তপাতকে ক্যানসার ভেবে বসেছিলেন তিনি!

সম্প্রতি ‘হাউটারফ্লাই’ নামক একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন জ্যাসমিন। সেখানেই বিনোদন জগতের এই পপ-সেনসেশন নিজের জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অধ্যায়টি মেলে ধরেন। তিনি জানান, আমাদের সমাজ বা পরিবারে আজও পিরিয়ড নিয়ে যে ট্যাবুর পরিবেশ রয়েছে, তারই শিকার হয়েছিলেন তিনি নিজে। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছনোর আগে তাঁদের পরিবারে কোনওদিন এই শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করা হয়নি। ফলে ঋতুস্রাব যে নারীশরীরের স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়া, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না তাঁর।

সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জ্যাসমিন বলেন, “তখন আমি সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি। আমেরিকার নিউ জার্সিতে থাকতাম। হঠাৎ একদিন যখন আমার শরীর থেকে রক্তপাত শুরু হলো, আমি ভয়ে পুরো জমে গিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আমার বোধহয় ক্যানসার হয়েছে এবং আমি আর বেশিদিন বাঁচব না, মারা যাব। আমি এতটাই আতঙ্কিত আর অপ্রস্তুত ছিলাম যে, নিজের জন্মদাত্রী মাকেও এই কথা কীভাবে জানাব, তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না।” পরবর্তীতে স্কুলে এই বিষয়ে কিছুটা জানানো হলেও, প্রথম অভিজ্ঞতার সেই মানসিক ট্রমা তিনি আজও ভুলতে পারেননি।

বিনোদন মহলে জ্যাসমিনের এই মন্তব্য বর্তমানে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। গায়িকা অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে বলেন, “পিরিয়ড আসলে একটি মেয়ের জীবনের অত্যন্ত সুন্দর ও স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যখন একটি ছোট মেয়েকে তার নিজের শরীরের এই বদল সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানানো হয় না, তখন অবধারিতভাবে সেটি তার জীবনের সবচেয়ে ভীতিজনক ও ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়।”

এই শো-এর মাধ্যমে জ্যাসমিন বর্তমান প্রজন্মের সমস্ত অভিভাবক, বিশেষ করে মায়েদের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কন্যাসন্তানের বয়স ১০-১১ বছর হওয়ার পর, অর্থাৎ প্রথম পিরিয়ড হওয়ার আগেই যেন মায়েরা ঘরে বসে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে এই বিষয়ে কথা বলেন। নেটাগরিকরা  গায়িকার এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

সম্প্রতি দিল্লির এক লাইভ কনসার্টে হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে নিজের হবু বর শেখর চৌধুরীর হাত ধরে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দিয়েছেন এই গায়িকা। আর এবার সমাজ সচেতনতামূলক এই মন্তব্য করে তিনি প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু মঞ্চ কাঁপানো গায়িকাই নন, বরং সমাজের অন্ধকার দূর করার এক সাহসী কণ্ঠস্বরও বটে।