২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থ্রি ইডিয়টস’ আজও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ছবি। তবে ছবির প্রধান চরিত্র র‍্যাঞ্চো আদৌ কি লাদাখের শিক্ষাবিদ ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুককে মাথায় রেখে তৈরি হয়েছিল? এই প্রশ্ন বহু বছর ধরেই আলোচনায়। সম্প্রতি সোনাম ওয়াংচুক এর অনশনকালীন সেই বিতর্কে আবারও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির খান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, র‍্যাঞ্চো চরিত্রটি সরাসরি সোনম ওয়াংচুকের জীবনী অবলম্বনে তৈরি নয়। তাঁর কথায়, ছবিটি মূলত চেতন ভগতের উপন্যাস Five Point Someone থেকে অনুপ্রাণিত। ছবির গল্পে নানা পরিবর্তন আনা হলেও র‍্যাঞ্চোকে কোনও একক বাস্তব ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি হিসেবে তৈরি করা হয়নি।

তবে এই বিষয়ে পরিচালক রাজকুমার হিরানি এবং প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া-র বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। হিরানি জানিয়েছেন, চিত্রনাট্য তৈরির সময় তিনি এবং অভিজাত জোশী লাদাখে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তাঁর জীবনদর্শন, শিক্ষা নিয়ে ভাবনা এবং উদ্ভাবনী কাজ তাঁদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তবে সেই প্রভাব চরিত্রের একটি অংশে সীমাবদ্ধ ছিল, পুরো চরিত্রটি তাঁর জীবনের হুবহু প্রতিরূপ নয়।

 ছবির শেষ অংশে র‍্যাঞ্চোর যে জীবনযাপন এবং লাদাখে শিশুদের নিয়ে কাজ করার দৃশ্য দেখা যায়, সেখানে সোনম ওয়াংচুকের জীবনের প্রভাব স্পষ্ট। অর্থাৎ, চরিত্রটির কিছু বৈশিষ্ট্য বাস্তব জীবনের শিক্ষাবিদের থেকে নেওয়া হলেও সেটিকে সম্পূর্ণভাবে তাঁর জীবনী বলা ঠিক হবে না এমনটাই দাবি রাজকুমার হিরানির৷ 

উল্লেখ্য, ২০১০ সালেই সোনম ওয়াংচুক অভিযোগ করেছিলেন, ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর র‍্যাঞ্চো চরিত্রটি তাঁর জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হলেও যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সেই সময় এই বিতর্ক দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। পরে ছবির নির্মাতারা জানান, তাঁরা কখনও দাবি করেননি যে র‍্যাঞ্চো একমাত্র সোনম ওয়াংচুকের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

আমির খান যেখানে স্পষ্টভাবে বলছেন, চরিত্রটি কোনও এক ব্যক্তিকে অনুসরণ করে তৈরি হয়নি, সেখানে রাজকুমার হিরানি এবং বিদু বিনোদ চোপড়া স্বীকার করছেন যে সোনম ওয়াংচুক তাঁদের ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিলেন।