নেটফ্লিক্সের ছবি ‘কর্তব্য’-তে আবার পুলিশের পোশাকে সইফ আলি খান। বিষয়টি উত্তেজনার চেয়ে কৌতূহলই বেশি জাগায়। এ যেন ঝাঁ চকচকে অ্যাকশনে নায়কের প্রত্যাবর্তন নয়। বরং তাঁর এমন এক চরিত্রে ফেরা, যা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়।
সইফকে শেষবার যে পুলিশ চরিত্রে দর্শক সত্যিই মনে রেখেছেন, সেটিও ছিল নেটফ্লিক্সেরই ‘সেক্রেড গেমস’। প্রায় আট বছর আগে। সেখানে সরতাজ সিং কোনও চেনা ছকের বলিউডি পুলিশ ছিল। সে ছিল সংশয়ে ভরা, নৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত এক মানুষ। সংযত অভিনয়ে সেই চরিত্রে আলাদা ওজন এনেছিলেন সইফ। তবে তারপর থেকে তাঁর কেরিয়ার যেন খানিকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এই আট বছরে একের পর এক ভিন্নধর্মী ছবিতে কাজ করেছেন সইফ। কিছু সিদ্ধান্ত ছিল সাহসী, কিছু আবার প্রশ্ন তুলেছে। ‘তানাজি’ ছাড় বাকি কাজগুলোর কোনওটিই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এক সময় যে ইমেজ সইফের ক্ষেত্রে কাজ করত, সেগুলোর ধার আজ অনেকটাই ভোঁতা। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে তাঁর অধ্যায় শেষ। কমেডি, যা একসময় তাঁর শক্তি ছিল, এখন কিছুটা একঘেয়ে মনে হয়। এমনকি যে অ্যান্টি-হিরো চরিত্র তাঁকে দ্বিতীয় ইনিংস দিয়েছিল, সেটিও যেন ধীরে ধীরে জৌলুস হারিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটেই আসে ‘কর্তব্য’। ২০২৬ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেতে চলা এই ছবিতে সইফ এমন এক পুলিশ, যার লড়াই শুধু অপরাধীদের সঙ্গে নয়। তার পরিবার বিপদের মুখে, চারদিক থেকে ঘনিয়ে আসছে হুমকি, আর দায়িত্ব পালনের পথে তাকে নিতে হচ্ছে কঠিন ও অস্বস্তিকর সিদ্ধান্ত। এখানে দাপট নেই, নেই বাহাদুরি। এখানে তিনি ‘সিংহম’ বা ‘দবং ’ ঘরানার নায়ক নন।
পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার পুলকিতের কথায়, গ্রামীণ ভারতের পটভূমিতে ‘কর্তব্য’ আইন, পরিবার ও দায়িত্বের জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে। নির্মাতাদের মতে, সইফের চরিত্রটি বহুস্তরীয়। যে ধরনের চরিত্রে তিনি বরাবরই সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল।
সইফের সহ-অভিনেতাদের তালিকাও শক্তিশালী। সইফের স্ত্রীর চরিত্রে রয়েছেন রসিকা দুগল। পাশাপাশি আছেন সঞ্জয় মিশ্র, সৌরভ দ্বিবেদী, জাকির হুসেন ও মনীশ চৌধুরী।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, নেটফ্লিক্স সইফ আলি খানের জন্য আগেও সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। ‘সেক্রেড গেমস ’ শুধু তাঁর কেরিয়ারকে নতুন গতি দেয়নি, বরং নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিল। আবার সেই প্ল্যাটফর্মে, আবার এক পুলিশ চরিত্রে ফেরা। এই সিদ্ধান্ত যেন সচেতনভাবেই নেওয়া।
পুলিশ-নির্ভর গল্পের ভিড়ে ‘কর্তব্য’ আলাদা হয়ে উঠতে পারবে কি না, তার অনেকটাই নির্ভর করবে লেখনী ও অভিনয়ের উপর। তবে আশার কথা যে, পর্দায় অপরাধবোধ, দ্বন্দ্ব আর দায়িত্বের ভারে নুয়ে পড়া চরিত্রে সইফ সাধারণত হতাশ করেন না।
