সাল ২০২৪। টলিউডে নতুন চমক—জিৎ ও রুক্মিণী মৈত্রের জুটি। ‘বুমেরাং’-এ প্রথমবার একসঙ্গে পর্দায় আসতেই দর্শক মুগ্ধ হয়েছিল তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত রসায়নে। শুধু ছবিতেই নয়, ছবির বাইরে প্রচারের সময়ও তাঁদের মধ্যে সেই একই উষ্ণতা, খুনসুটি আর স্বাচ্ছন্দ্য নজর কেড়ে নেয় সবার।

শান্ত, স্বল্পভাষী, কিছুটা মুখচোরা—জিৎ সম্পর্কে ইন্ডাস্ট্রি ও ভক্তদের ধারণা বরাবরই এমনই ছিল। কিন্তু রুক্মিণীর সঙ্গে দেখা গেল তাঁর একদম অন্য দিক—হাসিখুশি, মজাদার, খোলামেলা। যেন দু’জনের মাঝে পেশাগত দূরত্ব থাকেইনি কখনও। কাজের সূত্রে শুরু হওয়া সম্পর্ক মসৃণভাবে পরিণত হয় আন্তরিক বন্ধুত্বে।

৩০ নভেম্বর জন্মদিন জিতের। ৪৬-এ পা দেওয়া সুপারস্টারকে বিশেষ দিনে আজকাল ডট ইনের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানালেন রুক্মিণী। বললেন, “শুভ জন্মদিন জিৎ স্যর। চাইব, উনি খুব খুব ভাল থাকুন। যেমন ফিট, সুন্দর আছেন, সারা জীবন যাতে তেমনই থাকেন। আরও আরও ব্লকবাস্টার হোক। আমাদের একসঙ্গে নতুন নতুন কাজ হোক। আর আমাদের মিষ্টি বন্ধুত্বটা যেন সারা জীবন বজায় থাকে।”

রুক্মিণীর সঙ্গে জিতের পরিচয় সম্পূর্ণ কাজের সূত্রে। একজন নায়িকা, অন্যজন প্রযোজক। ২০২০ সালে জিতের প্রযোজনা সংস্থার ছবি ‘সুইজারল্যান্ড’-এ আবির চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে রুক্মিণীকে দেখা যায়। গ্ল্যামার এবং আড়ম্বরের চেনা ছক ভেঙে পর্দায় তিনি সাধারণ, ছাপোষা চরিত্রে নিখুঁত অভিনয় উপহার দেন। প্রশংসিতও হন দর্শক এবং সমালোচকমহলে।  তিনি জানান, সেই কৃতিত্বও নাকি পুরোপুরি জিতের। তাঁর কথায়, “জিৎ স্যর যে আমাকে ‘সুইৎজারল্যান্ড’-এর জন্য উপযুক্ত মনে করেছিলেন, তার জন্য আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ। যেখানে পরিচালকও হয়তো আমার কথা ভাবেননি, সেখানে প্রযোজক হিসাবে উনি আমাকে ওরকম একটা চরিত্রে নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। আমার কেরিয়ারের অন্যতম ভাল কাজের মধ্যে ওই ছবিটা থেকে যাবে। এখনও দর্শক আমায় ওই ছবিটার কথা বলেন।”

আক্ষরিক অর্থেই ইন্ডাস্ট্রিতে রুক্মিণীর ‘সিনিয়র’ জিৎ। নায়িকা যদি ভাল অভিনয় করেন, তিনি প্রশংসা করতে দ্বিধা করেন না। আর ভুল-ত্রুটি থাকলেও নিঃসঙ্কোচে তা ধরিয়ে দেন। রুক্মিণী বলেন, “যখনই ওঁর মনে হয়, আমার কোনও জায়গায় আরও উন্নতি করা দরকার—অভিনয়ের উপর আরও কাজ বা পড়াশোনার প্রয়োজন—তখন উনি তা আমাকে মুখের উপর বলতে একবারও দ্বিধা করেন না। আমার খুব ভাল লাগে যে উনি সবটা খোলাখুলি বলেন। যদি রাখঢাক করে বলতেন, হয়তো কখনও বলতেনই না। উনি আমার ভাল চান বলেই, এভাবে সাহায্য করেন।”

তবে শুধু অভিনয়ের পাঠই নয়, নায়ক-নায়িকা একসঙ্গে আড্ডাও দেন। কাজের কথার মাঝেও চলতে থাকে মজা, খুনসুটি। রুক্মিণী বললেন, “জিৎ স্যর আমায় ভীষণ ভালবাসেন। আমি কী করছি, কেমন আছি, সব সময় খোঁজ রাখেন। আমার কাজ থাকুক বা না-থাকুক, গল্প করার জন্য এমনিই ফোন করেন। ওঁর মতো একজন সহকর্মী পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্য। চাইব সারা জীবন যাতে উনি এমনই থাকেন।”