সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে একটি প্রচার সঙ্গীত গেয়েছিলেন ইমন চক্রবর্তী। এমনকী এই বছরের বঙ্গবিভূষণ সম্মানেও সম্মানিত হন গায়িকা। এরপরই জল্পনা শুরু হয়, এই বছর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সোজাসুজি রাজনীতির ময়দানে নামবেন তিনি। দাঁড়াবেন ভোটে। তবে প্রথম থেকেই এই জল্পনা অস্বীকার করে গিয়েছেন ইমন। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে সেই কথা সত্য প্রমাণিত হল। তারপর কী প্রতিক্রিয়া দিলেন গায়িকা?
ইমন চক্রবর্তী এদিন আজকাল ডট ইনকে বলেন, "আমি প্রথম থেকেই জানতাম আমার নাম থাকবে না। এত মানুষের ঘৃণা, অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন যে আমি ভোটে দাঁড়িয়ে গিয়েছি। সবাইকে বোঝানোর মতো আমার একার ক্ষমতা ছিল না। আজ যখন নামগুলো সব বেরোল আমি খুব নিশ্চিন্ত হলাম। এবার অন্তত কিছু মানুষ আর আমার উদ্দেশ্যকে প্রশ্ন করবেন না। কিছু মানুষ তাঁদের প্রশ্নের উত্তর আজকে পাবেন সেটা ভেবে ভাল লাগছে।"
ভোটে 'দাঁড়াচ্ছেন', এই জল্পনা শুনে শুনে তিনি ক্লান্ত। তাই এদিন ট্রোলারদের জবাব দিয়ে বলেন, "আমি সুন্দর পায়ে আমার দুটো পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমি বহু বছর ধরে নিজের পায়েই দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু যাঁরা যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন তিনটি দল থেকে তাঁদের আমার তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা। নিজেদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন কারণ গরমে প্রচার করতে হবে। এদের মধ্যে আমার অনেক বন্ধুরাও রয়েছেন তাঁদের আরও একটু বেশি ভালবাসা। আগামী নির্বাচন খুব সুষ্ঠ ভাবে হোক।"
এই কদিন যে লাগাতার কটাক্ষ শুনেছেন, সেটায় কতটা মানসিক অশান্তির মধ্যে ছিলেন জানতে চাইলে ইমন বলেন, "একদম গায়ে লাগেনি, কিছু মনে হয়নি সেটা নয়। বাড়িতে বসে চিল করছিলাম, ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিইনি সেটা নয়। এই সময় আমি প্রচুর বই পড়েছি, গান গেয়েছি, রেওয়াজ করেছি, অনেক হেরে যাওয়া মানুষের সামনে ফেরত আসার গল্প দেখেছি। এই সময়টা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। প্রতিটি জিনিসের ভাল দিক, খারাপ দিক, দুই থাকে। আমি চেষ্টা করি ভাল দিক দেখার। আমার না এখন অনেক গান গাওয়া বাকি আছে, অনেক কিছু করা বাকি আছে। আমার সঙ্গীতজীবনের জন্য আশীর্বাদ করবেন।"
এই বিষয়ে এদিন সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টও করেন। লেখেন, 'বিগত কয়েকমাস ধরে আপনারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করিয়েছিলেন। এই যেমন উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, বালি, সিমেন্ট, আমতলা, জামতলা ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার কেওড়াতলাতেও নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন।' তিনি এদিন আরও লেখেন, ' এবার আপনাদের কাছে করজোড়ে একটি বিনীত অনুরোধ রাখছি- প্লিজ, আমাকে এবার একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।' (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হল)
