গত বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF)-এ ব্যাপক সাড়া পেয়েছে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘নধরের ভেলা’ (The Slow Man and His Raft) ছবি। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ইন্টারন্যাশন্যাল কম্পিটিশন: ইনোভেশন ইন মুভিং ইমেজেস’ বিভাগে দেখানো হয়েছিল সেই ছবি। এরপর চলতি বছরে জানুয়ারিতে এই ছবি কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ সাউথ এশিয়া টরন্টো (আইএফএফএসএ টরন্টো) চলচ্চিত্র উৎসবে জিতে নিয়েছিল ‘সেরা ছবি’র (আন্তর্জাতিক) পুরস্কার। যা বিশ্বের অন্যতম বড় ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল।  কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে শুরু করে কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ সাউথ এশিয়া (আইএফএফএসএ টরন্টো)—‘নধরের ভেলা’র জয়যাত্রা যেন থামছেই না। টরন্টোতে ‘সেরা ছবি’র আন্তর্জাতিক পুরস্কার জেতার পর থেকেই দর্শকদের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকে যে ধরণের প্রথা ভাঙার নজির দেখা গেল, তা টলিপাড়ায় বিরল।

 

 

কোনও ঝাঁ-চকচকে প্রেক্ষাগৃহে নেই জাঁকজমকপূর্ণ প্রিমিয়ার, নেই নামী-দামী রেড কার্পেট। প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য বরাবরই নিজের শর্তে গল্প বলতে পছন্দ করেন। এই ছবির মুক্তিও হয়েছে সেই খামখেয়ালি মেজাজেই। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ঘুরে ঘুরে স্বাধীনভাবে চলছে ছবির স্ক্রিনিং। ঠিক যেন এক ভাসমান ভেলা, যা তার নিজস্ব গতিতে খুঁজে নিচ্ছে দর্শককে।

ছবিটি শুট হয়েছিল প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের নিজের গ্রাম নদিয়ার তেহট্টে। নধরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অমিত সাহা, আর সার্কাস ম্যানেজারের চরিত্রে দেখা যাবে ঋত্বিক চক্রবর্তীকে। পরিচালকের কথায়, “এক অর্থে, অমিত এই ছবির নায়ক আর ঋত্বিক খলনায়ক।” সসম্প্রতি ঋত্বিক চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যা দেখে অবাক নেটপাড়া। শুটিংয়ের বিরতিতে সার্কাসের তাঁবুর ভেতরে জোকারের সাজে ঋত্বিক এবং অন্যান্য অভিনেতাদের উদ্দাম নাচ! সেই নাচের ছন্দে একে একে যোগ দিচ্ছেন টেকনিশিয়ানরাও। তাল ও তালের যন্ত্র হিসেবে তাসর-ঘন্টার আওয়াজ—ঋত্বিক যার নাম দিয়েছেন ‘হঠাৎ ফূর্তি’। ক্যামেরার পেছনের এই অকৃত্রিম মুহূর্তগুলোই যেন ছবির প্রাণ


নধরের ভেলা’ এক ‘মিসফিট’ মানুষের গল্প। সমাজের চোখে যে ‘মিসফিট’। তাঁর ‘অপরাধ’? সে অত্যন্ত ধীরগতি। অলস নয় কিন্তু, ধীরগতির মানুষ। যা-ই সে করে, সমস্তটাই ভীষণ আস্তে আস্তে করে। সেই মানুষটাই পাকেচক্রে ঢুকে যায় এক ভ্রাম্যমান সার্কাসের দলে। সেখানে তার সঙ্গে কী কী ঘটছে, সেই সার্কাসের দলের বাকি শিল্পী, লোকজন তার সঙ্গে কী কী করছে, তাদের অবস্থান কী...তাদের পেশা ও নিজেদের জীবন নিয়ে দোলাচলের মধ্যে এমন একটি মানুষ হাজির হওয়াতে কী হয় শেষমেশ তাই নিয়েই এই ছবি। কথাশেষে পরিচালকের সংযোজন, “এই ছবির মাধ্যমে কিন্তু সেভাবে আমি গুরুতর বার্তা দিতে চাইনি। যদি কেউ এই ছবি থেকে কোনও বার্তা পান, সেটা তাঁর নিজস্ব অর্জন। তবে এই ছবি দেখলে, দর্শকের অন্যরকম অনুভূতি হবে, এটুকু বলতে পারি।”