মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার বুধবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন। বারামতীতে এক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ গোটা দেশ। রাজনৈতিক মহল থেকে বিনোদন জগৎ, সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ ও শিল্পীমহলের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়েছেন।

অভিনেতা রীতেশ দেশমুখ এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ লেখেন, ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অজিত দাদাকে হারিয়ে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও ভেঙে পড়েছি। মহারাষ্ট্রের অন্যতম গতিশীল নেতা ছিলেন তিনি। কাজের ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি তিনি সহ্য করতেন না। তাঁর চারপাশের মানুষদের সবসময় আরও ভাল করার অনুপ্রেরণা দিতেন। স্পষ্টভাষী ছিলেন, রসবোধ ছিল অসাধারণ, আর গোটা রাজ্যজুড়ে তিনি ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন।’

এরপর আরও লেখেন, ‘তাঁর অকালপ্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি। বহুবার তাঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, তাঁর সৌজন্য ও আন্তরিকতা আমি আজীবন মনে রাখব। পাওয়ার পরিবার, তাঁর প্রিয়জন এবং অগণিত অনুরাগীর প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।’



অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ স্মৃতি ইরানি লেখেন, ‘ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শ্রী অজিত পাওয়ারজির অকালপ্রয়াণে আমি স্তম্ভিত ও মর্মাহত। মানুষের জন্য তাঁর নিরলস কাজ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। এই শোকের সময়ে শোকার্ত পরিবারের জন্য আমার প্রার্থনা রইল। ওম শান্তি।’



অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা পবন কল্যাণ এক্স-এ শোকপ্রকাশ করে লেখেন, ‘মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী, এনডিএ জোটের অন্যতম নেতা শ্রী অজিত দাদা পাওয়ারজির মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াণের খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। মহারাষ্ট্রের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা সর্বদা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।’



তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই গভীর শোকের সময়ে তাঁর পরিবার, অনুরাগী এবং দলের কর্মীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।’

পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকর লেখেন, ‘অজিত পাওয়ারজির অকালপ্রয়াণে গভীরভাবে মর্মাহত। রাজ্য রাজনীতির এক বিশাল ব্যক্তিত্বকে হারালাম। এই কঠিন সময়ে সুনেত্রাজি, পার্থ, জয় এবং গোটা পাওয়ার পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। তাঁদের শক্তি দিন। ওম শান্তি।’

গায়ক রাহুল বৈদ্য তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘অত্যন্ত স্তম্ভিত। দাদা, শান্তিতে ঘুমোন। ওম শান্তি।’
প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খের লেখেন, ‘মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার দাদার মর্মান্তিক প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। যখনই তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাঁকে অত্যন্ত ভদ্র ও সদয় মানুষ হিসাবে পেয়েছি। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার প্রার্থনা। ওম শান্তি।’

অজিত পাওয়ারের এই আকস্মিক প্রয়াণ রাজ্য রাজনীতি ও জনজীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল। এমনটাই মত রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের।