রণবীর সিং এবং 'ধুরন্ধর'-এই দুই নাম এখন ভারতীয় বক্স অফিসের সমার্থক। বিশ্বজুড়ে ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করে ইতিহাস গড়েছে এই স্পাই-থ্রিলার ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে ছবির এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক রুদ্ধশ্বাস ব্যবসায়িক কৌশল। যা নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছবির সহ-প্রযোজক প্রধান জ্যোতি দেশপাণ্ডে হাঁড়ি হাটে ভেঙেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই মেগা প্রজেক্টের জন্য শুরুতে রণবীর সিং কোনও চড়া পারিশ্রমিক নেননি!

বলিউডের অন্যতম প্রথম সারির তারকা হয়েও কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন রণবীর? এর পেছনে রয়েছে বাজেট নিয়ে তৈরি হওয়া এক চরম অনিশ্চয়তা এবং তারকা-পরিচালকের দুর্দান্ত পেশাদারিত্ব। জ্যোতি দেশপাণ্ডে জানান, 'ধুরন্ধর' ছবিটির বাজেট পরিকল্পনা অনুযায়ী ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শুটিং শুরু হওয়ার পর ছবির বিশাল স্কেল ও জাঁকজমকের কারণে খরচ প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছবির স্বার্থে এগিয়ে আসেন নায়ক রণবীর সিং এবং পরিচালক আদিত্য ধর। তাঁরা দু'জনেই নিজেদের চড়া পারিশ্রমিক কাটছাঁট করতে রাজি হন। মোটা অঙ্কের অগ্রিম টাকা নেওয়ার বদলে তারা প্রযোজকদের সঙ্গে 'ব্যাক-এন্ড প্রফিট শেয়ারিং' বা লভ্যাংশ ভাগাভাগির চুক্তিতে যান। প্রযোজকের কথায়, "রণবীর এবং আদিত্য দু'জনেই খুব সামান্য ফিক্সড ফি নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন এবং ব্যাক-এন্ড ডিল সাইন করেছিলেন। ফলে ছবির আর্থিক ঝুঁকি ও সাফল্য-দুই-ই সমানভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছিল।"

টাকার টানাটানির মধ্যেই জন্ম নেয় এক নতুন সৃষ্টিশীল ভাবনা। জ্যোতি দেশপাণ্ডে খোলসা করেছেন যে 'ধুরন্ধর' আদতে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি বা দুই পর্বের সিনেমা হিসেবে লেখা হয়নি। এটি ছিল একটি একক ছবির গল্প। কিন্তু প্রথম শিডিউলের শুটিং শেষ হতেই দেখা যায় বাজেট পার হয়ে গেছে। তবে সেই প্রথম শিডিউলের ফুটেজ এবং গল্প বলার গতি এতটাই চমৎকার ও দুর্দান্ত ছিল যে টিম বুঝতে পারে এই গল্পকে অনায়াসেই দুটি পর্বে ভাগ করা সম্ভব। সেই ঝুঁকি নিয়েই তৈরি হয় 'ধুরন্ধর' এবং এর সিক্যুয়েল 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ'। 

শুরুতে ঝুঁকি নিয়ে কম টাকা নিলেও, রণবীর ও আদিত্যর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁদের জন্য জ্যাকপট প্রমাণিত হয়েছে। বক্স অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ধুরন্ধর (প্রথম পর্ব) বিশ্বজুড়ে আয় প্রায় ১,৩০৭ কোটি টাকা। আর ধুরন্ধর ২ (দ্য রিভেঞ্জ): ১,৭৯০ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেছে। 

দুই পর্ব মিলিয়ে বক্স অফিসে ৩,০০০ কোটি টাকার ম্যাজিক ফিগার পার হতেই লভ্যাংশের এক বিশাল অঙ্কের টাকা পকেটে পুরেছেন রণবীর ও আদিত্য। জ্যোতি দেশপাণ্ডে হাসতে হাসতে বলেন, "ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার এই কৌশলের কারণেই আজ আমরা প্রত্যেকে হাসিমুখে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফিরতে পারছি।"

চমকের শেষ এখানেই নয়! 'ধুরন্ধর'-এর ভক্তদের জন্য আরও একটি বড় সুখবর দিয়েছেন প্রযোজক। থিয়েটারে রাজত্ব করার পর 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ' ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিও-হটস্টারে স্ট্রিমিং শুরু হচ্ছে। সঙ্গে চলতি বছরের শেষের দিকে দর্শকদের জন্য আরও একটি বড় 'সারপ্রাইজ' অপেক্ষা করছে বলেও ইঙ্গিত দেন প্রযোজক।