পরিচালক ফারহা খান-এর ‘তিস মার খান’ ছবির নাম শুনলেই সবার আগে মাথায় আসে ক্যাটরিনা কাইফের ‘শীলা কি জওয়ানি’ গানের ভিডিওটি। ২০১০ সালের সেই ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মিম কালচারে এটি একটি আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। এবার এই ছবির শুটিংয়ের সময়ের এক অবিশ্বাস্য ও তুমুল মজাদার সিক্রেট হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন স্বয়ং ফারহা। তিনি জানান, ছবির নায়ক অক্ষয় কুমার নাকি প্রতিদিন শুটিং সেটে আসার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতেন, ঠিক যেন একটি ওলা বা উবের ট্যাক্সি!

সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স -এ মুক্তি পেতে চলা অক্ষয় কুমার, পরিচালক প্রিয়দর্শন এবং রাজপাল যাদবের আগামী হরর-কমেডি ছবি ‘ভূত বাংলা’-র প্রচারের জন্য এক আড্ডায় বসেছিলেন ফারহা খান। আর সেখানেই উঠে আসে এই মজার তথ্য। ফারহা খান স্মৃতিচারণ করে জানান, ‘তিস মার খান’-এর শুটিং চলছিল মুম্বই থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার দূরত্বের মালশেজ ঘাটে । প্রতিদিন সকাল ৮টায় ছিল কল-টাইম। তাই ছবির কাস্ট ও ক্রু-র সবাই ওখানেই হোটেল বা রিসর্টে রাত কাটাতেন। কিন্তু অক্ষয় কুমার ছিলেন ব্যতিক্রম!

 

ফারহা বলেন, “অক্ষয় প্রতিদিন প্যাক-আপের পর সন্ধে বেলা মুম্বইয়ে নিজের বাড়ি ফিরে যেতেন এবং পরের দিন ঠিক সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে সেটে হাজির হতেন!”এই কথা শুনে সেখানে উপস্থিত কমেডিয়ান রাজপাল যাদব আকাশ থেকে পড়েন এবং অবাক হয়ে ভাবেন, আড়াই ঘণ্টার রাস্তা প্রতিদিন কীভাবে অক্ষয় যাতায়াত করতেন? তখনই অক্ষয় অত্যন্ত ক্যাজুয়াল মেজাজে খোলসা করেন যে— তিনি গাড়িতে নয়, বরং প্রতিদিন হেলিকপ্টারে চড়ে যাতায়াত করতেন! ফারহা হাসতে হাসতে যোগ করেন, “আমি জীবনে প্রথমবার কোনও অভিনেতাকে হেলিকপ্টারকে ট্যাক্সির মতো ব্যবহার করতে দেখলাম। তবে হ্যাঁ, ও যাই করুক না কেন, প্রতিদিন একদম কাঁটায় কাঁটায় সময়ে সেটে পৌঁছে যেত।”

অক্ষয় অবশ্য নিজের এই রাজকীয় যাতায়াতের ডিফেন্স বা সাফাই দিয়ে বলেন, এতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয় কারণ তিনি নিজেই ওই ছবির সহ-প্রযোজক ছিলেন। এই কথা শোনা মাত্রই ফারহা সপাট খোঁচা দিয়ে বলেন, “আরে বাবা, প্রযোজক তো আমিও ছিলাম! ও তো আমার সব টাকা খেয়ে নিল!”

 

অক্ষয়ও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন, তিনি পাল্টা দাবি করেন যে ওই ছবি থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা নাকি ফারহাই কামিয়েছিলেন। রসিকতা করে ফারহা তখন বলেন, ওঁদের উচিত ছবির মূল প্রযোজক রনি স্ক্রুওয়ালা-কে ফোন করে জিজ্ঞেস করা যে ওঁদের সব টাকা আসলে কোথায় উবে গিয়েছিল!

প্রসঙ্গত, বিতর্কিত পডকাস্টার রণবীর এলাহাবাদিয়াকে দেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে ফারহা জানিয়েছিলেন, ‘তিস মার খান’-এর বক্স অফিস ব্যর্থতা ওঁকে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে কতটা ট্রমার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। প্রায় ৮৪ কোটি টাকার ব্যবসা করলেও ছবিটি চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিল।

ফারহার কথায়, “একটা ফ্লপ ছবি আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। লোকে আপনাকে বাধ্য করবে নিজের ওপর সন্দেহ তৈরি করতে। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যখন আপনার ছবি হিট হয়, লোকে ভাবে আপনি ভগবান, আপনার সব কথা অন্ধের মতো শোনে। আবার ফ্লপ হলে পুরো ছবিটা বদলে যায়। কেরিয়ারের দিক থেকে ওটা আমার জন্য খুব একটা ভাল সময় ছিল না।” তবে আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, সেই ফ্লপ ছবির স্মৃতি নিয়েও অক্ষয়ের সঙ্গে ফারহার এই বিন্দাস আড্ডা প্রমাণ করে দেয় যে ওঁদের বন্ধুত্ব আজও কতটা মজবুত।