বলিপাড়ায় জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে এবার যে বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে, তা খোদ 'মর্দানি' অভিনেত্রী রানি মুখার্জির এক বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রানি জানিয়েছেন, তাঁর মনে হয় তাঁর একমাত্র মেয়ে আদিরা হয়তো তাঁর শ্বশুরমশাই অর্থাৎ কিংবদন্তি পরিচালক যশ চোপড়ারই পুনর্জন্ম। রানির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে নেটিজেনদের মধ্যে।
রানি মুখার্জি ও আদিত্য চোপড়ার ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই প্রচারের আলোর আড়ালে থাকে। আদিরাকেও ক্যামেরার সামনে খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় রানি তাঁর মাতৃত্ব এবং মেয়ের ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, আদিরার মধ্যে এমন কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা হুবহু যশ চোপড়ার কথা মনে করিয়ে দেয়।
রানির মতে, যশ চোপড়া যেমন ভীষণ ভোজনরসিক ছিলেন এবং মানুষকে খাওয়াতে ভালবাসতেন, ঠিক তেমনই ছোট্ট আদিরার মধ্যেও খাবারের প্রতি এক অদ্ভুত টান লক্ষ্য করা যায়। শুধু তাই নয়, রানির দাবি, আদিরার চলন-বলন এবং কথা বলার ধরনেও এক আশ্চর্য আভিজাত্য রয়েছে, যা যশ চোপড়ার ব্যক্তিত্বের বড় অংশ ছিল। অভিনেত্রী বলেন, "মাঝে মাঝে আমি যখন আদিরাকে দেখি, আমার মনে হয় বাবা (যশ চোপড়া) বোধহয় আমাদের কাছে আবার ফিরে এসেছেন। ওর চোখের ভাষা বা ওর জেদ—সবকিছুই যেন সেই স্মৃতি বহন করছে।"
চোপড়ার একমাত্র সন্তান আদিরা। শুরু থেকেই তাকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন এই তারকা দম্পতি। কিন্তু মেয়ে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যক্তিত্ব যে রানির ওপরও প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট হল অভিনেত্রীর কথায়। রানির দাবি, তিনি তাঁর ‘জেন-আলফা’ প্রজন্মের মেয়েকে রীতিমতো ভয় পান!
সাক্ষাৎকারে রানি বলেন, “আমার বাবা (রাম মুখোপাধ্যায়) মারা যাওয়ার পর, আমার অভিনয় নিয়ে ওঁর মতামত পাওয়াটা আমি খুব মিস করি। এটা কঠিন, তবে ঈশ্বর সবকিছুর ভারসাম্য বজায় রাখেন। তিনি আমাকে আমার মেয়েকে দিয়েছেন। ও আমার খুব কাছের এবং আমাকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত। আমার মেয়ে আমার বাবার জায়গা নিয়েছে। আজ ও-ই আমার সবথেকে বড় অনুপ্রেরণা। যদিও ও আমার সিনেমা দেখেনি কারণ ও আমার প্রতি খুব বেশি আসক্ত এবং পর্দায় আমাকে কাঁদতে দেখলে ওর খুব কষ্ট হয়, তাই স্ক্রিনে আমাকে দেখা ওর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ও আমাকে পর্দায় নাচতে এবং হাসিখুশি দেখতেই পছন্দ করে। ও 'হিচকি', 'থোড়া পেয়ার থোড়া ম্যাজিক' এবং 'বান্টি অউর বাবলি' পছন্দ করে। 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়' ওর জন্য দেখা খুব কঠিন ছিল, কারণ প্রথম দৃশ্যেই আমি মারা যাই, তাই আমি ওকে তার বেশি আর দেখাতে পারিনি।”
রানি আরও জানান যে তাঁর মেয়ে তাঁকে মেকআপে দেখতে একদম পছন্দ করে না। তিনি বলেন, “আমি যখন মেকআপ করি, ও আমাকে বলে যে মাম্মা, তোমাকে আমার মায়ের মতো লাগছে না। আবার যখন আমি মেকআপ তুলে ওর কাছে আসি, ও বলে, এখন তোমাকে আমার মায়ের মতো লাগছে।”
নিজের মেয়েকে ভয় পাওয়ার কথা স্বীকার করে রানি বলেন, “ও আমাকে শাসনও করে। ও হল জেনারেশন আলফা, তাই ও আমাকে বকাবকি করে আর আমাকে সেটা শুনতেও হয়। কারণ প্রতিটি প্রজন্ম বদলে যায়। যেমন আমি আমার মায়ের কাছে চড় খেতাম, কিন্তু ওর সাথে আমি সেটা করার কথা ভাবতেও পারি না কারণ ও হয়তো উল্টে আমাকেই চড় মেরে দেবে।"
