পর্দায় রানি মুখার্জির দাপট চিরকালই প্রশ্নাতীত। কিন্তু পর্দার সেই ডাকাবুকো অভিনেত্রী বাস্তব জীবনে নিজের মেয়ের কাছে কতটা অসহায়? সম্প্রতি মুম্বই সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে মেয়ের শাসন আর আধুনিক প্রজন্মের চালচলন নিয়ে মুখ খুললেন রানি। সেখানে তিনি যা বললেন, তা শুনে নেটিজেনদের হাসির রোল উঠলেও অনেক মা-বাবাই নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন।


রানি মুখোপাধ্যায় এবং পরিচালক আদিত্য চোপড়ার একমাত্র সন্তান আদিরা। শুরু থেকেই তাকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন এই তারকা দম্পতি। কিন্তু মেয়ে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যক্তিত্ব যে রানির ওপরও প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট হল অভিনেত্রীর কথায়। রানির দাবি, তিনি তাঁর ‘জেন-আলফা’ প্রজন্মের মেয়েকে রীতিমতো ভয় পান!


সাক্ষাৎকারে রানি বলেন, “আমার বাবা (রাম মুখোপাধ্যায়) মারা যাওয়ার পর, আমার অভিনয় নিয়ে ওঁর মতামত পাওয়াটা আমি খুব মিস করি। এটা কঠিন, তবে ঈশ্বর সবকিছুর ভারসাম্য বজায় রাখেন। তিনি আমাকে আমার মেয়েকে দিয়েছেন। ও আমার খুব কাছের এবং আমাকে নিয়ে ভীষণ গর্বিত। আমার মেয়ে আমার বাবার জায়গা নিয়েছে। আজ ও-ই আমার সবথেকে বড় অনুপ্রেরণা। যদিও ও আমার সিনেমা দেখেনি কারণ ও আমার প্রতি খুব বেশি আসক্ত এবং পর্দায় আমাকে কাঁদতে দেখলে ওর খুব কষ্ট হয়, তাই স্ক্রিনে আমাকে দেখা ওর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ও আমাকে পর্দায় নাচতে এবং হাসিখুশি দেখতেই পছন্দ করে। ও 'হিচকি', 'থোড়া পেয়ার থোড়া ম্যাজিক' এবং 'বান্টি অউর বাবলি' পছন্দ করে। 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়' ওর জন্য দেখা খুব কঠিন ছিল, কারণ প্রথম দৃশ্যেই আমি মারা যাই, তাই আমি ওকে তার বেশি আর দেখাতে পারিনি।”

 

রানি আরও জানান যে তাঁর মেয়ে তাঁকে মেকআপে দেখতে একদম পছন্দ করে না। তিনি বলেন, “আমি যখন মেকআপ করি, ও আমাকে বলে যে মাম্মা, তোমাকে আমার মায়ের মতো লাগছে না। আবার যখন আমি মেকআপ তুলে ওর কাছে আসি, ও বলে, এখন তোমাকে আমার মায়ের মতো লাগছে।”

নিজের মেয়েকে ভয় পাওয়ার কথা স্বীকার করে রানি বলেন, “ও আমাকে শাসনও করে। ও হল জেনারেশন আলফা, তাই ও আমাকে বকাবকি করে আর আমাকে সেটা শুনতেও হয়। কারণ প্রতিটি প্রজন্ম বদলে যায়। যেমন আমি আমার মায়ের কাছে চড় খেতাম, কিন্তু ওর সাথে আমি সেটা করার কথা ভাবতেও পারি না কারণ ও হয়তো উল্টে আমাকেই চড় মেরে দেবে।"

 

প্রসঙ্গত, যশরাজ ফিল্মসের জনপ্রিয় মর্দানি ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় ছবিতে আরও একবার শক্ত হাতে আইন সামলাতে ফিরছেন রানি মুখোপাধ্যায়। এসিপি শিবানী শিবাজি রায়ের চরিত্রে তাঁকে আগেও দেখা গিয়েছে একাধিক ভয়ঙ্কর অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। তবে মর্দানি ৩-এ তাঁর সামনে যে চ্যালেঞ্জ, তা আগের সবকিছুকে ছাপিয়ে যেতে চলেছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে এই প্রতীক্ষিত ছবি।