বলিউডের একাধিক প্রথম সারির তারকার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ফিটনেস ট্রেনার শিভোহামের। সম্প্রতি অভিনেতা রণবীর কাপুরকে ট্রেনিং দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। শিভোহামের কথায় বারবার উঠে এসেছে রণবীরের অদ্ভুত রকমের সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা আর মাটিতে পা রেখে চলার মানসিকতা। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই গুণ রণবীরের একার নয়, আমির খান ও অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকারাও সময়ের ব্যাপারে ভীষণই কড়া।
সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিভোহাম বলেন, “রণবীর সব সময় ‘বড়সড় চেহারায়’ থাকতে পছন্দ করে না। এখন ও একদম স্বাভাবিক। একজন বাবা, একজন স্বামী, একজন ছেলে। প্রতিটা ছবির জন্য ও নিজেকে আলাদা ভাবে তৈরি করে, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে। কাজ শেষ হলে সেই অধ্যায়ও শেষ করে দেয়। মানুষকেও সেটাই শেখা উচিত।”
রণবীরের শৃঙ্খলার প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রেনার আরও বলেন, “রণবীরের থেকে যদি কিছু শেখার থাকে, সেটা হল নিয়মানুবর্তিতা। ও একদম ঘড়ির কাঁটার মতো সময় মেনে চলে। জীবনে ক’বার দেরি করেছে, আঙুলে গুনে বলে দিতে পারব। আর যদি কোনও দিন পাঁচ মিনিট দেরিও হয়, সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ পাঠায়, ‘ক্ষমা করবেন, আমার পাঁচ মিনিট দেরি হবে আসতে।’ এই ভদ্রতা আর দায়বদ্ধতা সত্যিই শেখার মতো।”
শিভোহামের কথায়, রণবীর শুধু একজন অভিনেতা নন, একজন ‘মানুষ হিসেবেও দুর্দান্ত’।“ওর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, কথা বলার ভঙ্গি -সবকিছুতেই একটা ভদ্রতা আছে। ‘খানদানি’ বলাটা এমনি এমনি নয়। ও ভীষণ জেনুইন,” বলেন তিনি।
আমির খানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও ভাগ করে নেন শিভোহাম। ‘লাল সিং চাড্ডা’ ছবির সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন,“আমির খানের মেকআপ আর দাড়ি পরতেই ২-৩ ঘণ্টা লেগে যেত। তাই আমরা ভোর ৩টেয় উঠে ট্রেনিং করতাম। কারণ এরপর ওকে টানা শিফটে বসে থাকতে হত।”রণবীরের ক্ষেত্রেও কাজের প্রতি একই রকম দায়বদ্ধতা দেখেছেন তিনি। “যদি ওর শিফট সকাল ৭টায় থাকে, তাও অন্তত আধঘণ্টা সময় বের করে ট্রেনিং করে। শুটিং ফ্লোরেই ছোট একটা জিম বানিয়ে নিয়েছিলাম, যাতে লাঞ্চ ব্রেকেও ওয়ার্কআউট করতে পারে,” জানান শিভোহাম।
এছাড়াও রাম চরণ, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ ও অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“অমিতাভ বচ্চন আজও সময় মেনে চলেন। কোনও মিটিং না থাকলে এক মিনিট দেরি করেন না। এই বয়সেও যে এরকম ডিসিপ্লিন, সেটা অবিশ্বাস্য।”
সবশেষে শিভোহামের সোজাসাপটা বক্তব্য, “এই মানুষগুলো সফল শুধুমাত্র ভাগ্যের জোরে নন। ভাগ্য হয়তো কিছুদিন সাহায্য করে, কিন্তু তার পর সবটাই নির্ভর করে আপনার পরিশ্রম, প্যাশন আর ডিসিপ্লিনের উপর। শুটিংকে বাইরে থেকে খুব গ্ল্যামারাস মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে এটা ভীষণ কঠোর পরিশ্রমের কাজ।”
