সোশ্যাল মিডিয়ার তথাকথিত ভ্লগ সংস্কৃতি নিয়ে সরব হলেন বিখ্যাত প্রযোজক রাণা সরকার। সম্প্রতি একাধিক পোস্টে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানালেন সেই সব কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরুদ্ধে, যারা আইন ভাঙার ঘটনাকে ক্যামেরাবন্দি করে পুলিশকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছেন বলে তাঁর অভিযোগ। একইসঙ্গে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ-এর প্রতি।

আসলে, সম্প্রতি এক ভ্লগারের ভিডিও পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছিলেন রাণা। হেলমেটহীন অবস্থায় দু’চাকা চালাচ্ছিলেন তিনি। স্বভাবতই আইন মেনেই কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক তাঁকে আটকান। এরপরেই কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের উদ্দেশ্যে ওই ভ্লগার ‘শোষণ’-এর অভিযোগ আনেন। তাঁর বক্তব্য, সামনেই তাঁর বাড়ি এবং তিনি ওষুধ আনতে বেরিয়েছেন তাই হেলমেট পরেননি 

গোটা বিষয়টি নিয়ে রাণার বক্তব্য, হেলমেট ছাড়া রাস্তায় বেরিয়ে পুলিশি ধরপাকড়কে ‘দাদাগিরি’ বলে প্রচার করা এক ধরনের বিপজ্জনক প্রবণতা। তাঁর কথায়, ক্যামেরা অন করলেই আইন ভেঙে দায় এড়ানো যায় না। বরং ডিউটিতে থাকা পুলিশকে বাধা দেওয়া বা ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা, এসবকেও আইনি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক ভ্লগার ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক তৈরি করে নিজের ভিডিওর ভিউস ও রিচ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। দোকানে গিয়ে ঝামেলা বাধানো থেকে শুরু করে পুলিশের সঙ্গে অকারণ তর্ক - এ সবই নাকি ‘ফুটেজ’ পাওয়ার কৌশল। এতে ডিজিটাল পরিসরে এক বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেই মত তাঁর।

তবে সব কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে একই চোখে দেখেন না রাণা। তিনি স্পষ্ট জানান, সুস্থ, সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরির বিরুদ্ধে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। গান, কমেডি বা তথ্যভিত্তিক ভিডিও তৈরি করা বহু নির্মাতার কাজ তিনি প্রশংসাও করেন। বরং তাঁদের জন্যই ডিজিটাল পরিবেশকে পরিষ্কার রাখা জরুরি বলে মন্তব্য তাঁর। এরপরেই নেটপাড়ার বাসিন্দাদের প্রতি ‘ধূমকেতু’ প্রযোজকের অনুরোধ,  “এরা ভ্লগ-এ ভিডিও করাকে ব্ল্যাকমেলিং-এর পর্যায়ে নিয়ে গেছে, এরাও সমাজবিরোধী ডিজিট্যাল দুষ্কৃতী। শুধু পুলিশ আইন দিয়ে হবে না, এরকম ভিডিও দেখলে ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিবাদ করুন। গণমত গড়ে তুলুন।”

 

&t=313s


রাণার এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, কেউ আবার দেখছেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম আইনের সীমারেখা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা হিসেবে। জাতিস্মর ছবির প্রযোজককে সাধুবাদ জানানোর অসংখ্য মন্তব্যের পাশাপাশি নজর কেড়েছে রাণার উদ্দেশ্যে এক নেটিজেনের মন্তব্য। যার মূল সুর হল - কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়ে বিনোদন জগতের প্রচলিত প্রবণতা নিয়েও। তাঁর মতে, শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ারের সংখ্যা দেখে কাজ দেওয়া কিংবা ছবির প্রচারে অপ্রাসঙ্গিক ইনফ্লুয়েন্সারদের ডেকে আনা, এই সংস্কৃতিও বন্ধ হওয়া উচিত।