টলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কোনও এক বিশেষ অভিনেতার ছবি মুক্তি পেলেই, একই সময়ে প্রেক্ষাগৃহে আসা অন্যান্য ছবিগুলিকে উদ্দেশ্য করে শুরু হচ্ছে লাগাতার কটাক্ষ ও আক্রমণ। সেই সমালোচনা অনেক সময় আর মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যক্তিগত অপমান, পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে আনা এমনকি ভয় দেখানোর ঘটনাও সামনে আসছে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে আলোচনা হয়। এরপর বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে ২ জানুয়ারি, শুক্রবার দুপুরে কলকাতার নগরপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন টলিউডের প্রতিনিধিরা। সেই দলে ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস ছাড়াও একাধিক পরিচালক, প্রযোজক এবং শিল্পীমহলের পরিচিত মুখ। উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং শিল্পীদের বিরুদ্ধে চলা এই লাগামছাড়া আক্রমণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক রাণা সরকার। টলিউডের কলাকুশলীদের হেনস্থার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে মাস কয়েক আগে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা কথা বলেন তিনি। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে বিকৃত করা হয়েছিল গল্পকার এবং পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী জিনিয়া সেনের ছবি। বিষয়টি নিয়ে আইনেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন শিবপ্রসাদ এবং জিনিয়া।

রাণা বলেন, “এই ধরনের কাজ কেউ একাও করে থাকতে পারে। আবার অনেক জন মিলেও করতে পারে। কয়েকবছর ধরেই এরকম হচ্ছে। অতীতে উইন্ডোজের জিনিয়ার উপর আক্রমণ হয়েছিল। তখন পুলিশে অভিযোগ করা হয়েছিল। ছবিমুক্তির সময় কাউকে যাতে আক্রমণ না করা হয় বা কারও সম্মান হানি না করা হয়, এটাই চাই। নিজস্ব মতামত যদি কেউ ব্যক্ত করে, তাতে কোনও অসুবিধা নেই। আমাদের দেশে সকলের বাকস্বাধীনতা আছে। কিন্তু কেউ সংগঠিত ভাবে ষড়যন্ত্র করে কিছু করছে কি না, সেটা তদন্তের জন্যই আমরা এসেছি।”

একই সময়ে একাধিক ছবি মুক্তি পেলেই প্রায়শই তারকাদের ফ্যানক্লাবগুলির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে কদর্য রেষারেষিতে পরিণত হয়, যা গড়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সেখান থেকেই জন্ম নেয় নানা অপরাধমূলক কার্যকলাপ। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাণা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের সঙ্গে এই সাক্ষাতের পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে।

স্বরূপের কথায়, “কখনও আমাদের রিলস, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, বিভিন্ন ভাবে আমাদের কলাকুশলী, শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক সবাইকে যেভাবে হেনস্থা, অপমান, ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এগুলোর জন্য ওঁর সঙ্গে আমরা কথা বলতে চাই। আমরা একটা লিখিত আবেদন নিয়ে এসেছি। আমরা এতে সবাই সই করে জমা করব। পুলিশের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে, আশা রাখব ওঁরা সঠিক ব্যবস্থা নেবেন।”