বিগত মাসখানেক ধরে চর্চায় রয়েছেন রাজপাল যাদব। ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স কেসে তিনি নিজে গিয়েই তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর বেশ কয়েক দিন জেলে কাটানোর পর অবশেষে ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছাড়া পান। এই ঘটনার ১২ দিনের মাথায় জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন রাজপাল যাদব।
এদিন ইনস্টাগ্রামে এসে একটি ভিডিও পোস্ট করে রাজপাল যাদব জানালেন তিনি এবার একটি নতুন কেরিয়ার শুরু করলেন। ইউটিউবার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। ঘোষণা করলেন তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের।
এই ভিডিওতে এদিন রাজপাল যাদবকে বলতে শোনা যায়, 'বহুদিন ধরেই প্রস্তুতি করছিলাম এই নতুন অধ্যায় শুরু করার। অবশেষে সেই সময়টা চলে এসেছে। আপনাদের আশীর্বাদ আজ থেকে আমার ইউটিউব চ্যানেল লঞ্চ হচ্ছে। আমার চ্যানেলের নাম রাজপাল নৌরাঙ্গ যাদব।'
তিনি এদিন একই সঙ্গে জানান এই চ্যানেলটি তিনি বাচ্চা থেকে বয়স্ক, যুবক সকলের মনোরঞ্জনের জন্য তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে অভিনেতা এদিন তাঁর অনুরাগীদের সুস্বাস্থ্য এবং খুশি কামনা করেন। তিনি বলেন, 'এই চ্যানেল আপনাদের। প্লিজ এনজয় করুন। এবং অবশ্যই শেয়ার ও সাবস্ক্রাইব করুন।' অভিনেতা জানিয়েছেন তিনি তাঁর এই প্রোফাইলে তাঁর ব্যক্তিগত থেকে পেশাগত জীবনের সমস্ত আপডেট দেবেন।
https://www.instagram.com/reels/DVSZqGBiFiK/
মামলাটি বহুদিনের আর্থিক বিরোধ ঘিরে। অভিযোগ, একটি ঋণ সংক্রান্ত চুক্তিতে বারংবার আদালতের নির্দেশ সত্বেও টাকাপয়সা শোধ করা হয়নি রাজপালের তরফে। যার জেরে শুরু হয় আইনি লড়াই। অভিনেতা মূলত একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুমতি চেয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন। তাঁর আবেদন প্রথম শোনা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি, পরে তা পিছিয়ে যায় ১৬ ফেব্রুয়ারিতে। সেদিনই জামিন পান, যা ১৮ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অভিযোগকারীর কাছে ১.৫ কোটি টাকা পরিশোধ করার পরই আদালত থেকে এই সাময়িক স্বস্তি মেলে অভিনেতার। তবে তার আগে ১১ দিন জেলে কাটিয়েছেন রাজপাল যাদব।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করতে হয় রাজপালকে। দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর অতিরিক্ত সময় চাওয়ার আবেদন খারিজ করে ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, আগের নির্দেশ বারবার অমান্য করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালে, যখন তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘আতা পাতা লাপাতা’ বক্স অফিসে সশব্দে মুখ থুবড়ে পড়ার পর ঋণের অঙ্ক সুদে-আসলে প্রায় ৯ কোটিতে পৌঁছয় বলে দাবি।
জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দেশের বাড়ির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে মুম্বই ফেরার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যনগরীর একটি ইভেন্টে যোগ দেন তিনি। সেখানে গিয়ে ভুল ভুলাইয়া ছবি থেকে ছোটা পণ্ডিতের চরিত্রটি অভিনয় করে দেখান। তাঁর সেই আচরণ দেখে মুগ্ধ হন সকলে।
