হিন্দি সিনেমার প্রথম সুপারস্টার রাজেশ খান্নার মৃত্যুর ১৪ বছর পরও তাঁকে ঘিরে এখনও কৌতুহল অব্যাহত। ২০১২ সালের ১৮ জুলাই প্রয়াত হন রাজেশ খান্না। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে চর্চিত প্রেমিকার অনিতা আডবানীর এক বিস্ফোরক দাবি।
অনিতার কথায়, জীবনের শেষ কয়েক বছরে রাজেশ খান্না এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন যে, তিনি যেন নিজের মৃত্যুকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে অনিতা বলেছিলেন, রাজেশ খান্নার জীবনের শেষ পর্ব ছিল অত্যন্ত নিঃসঙ্গ। একসময় যাঁর বাড়ির সামনে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকত, সেই মানুষটিই ধীরে ধীরে একাকীত্বে ডুবে যান। তাঁর দাবি, দিনের পর দিন রাজেশ খান্না কান্নাকাটি করতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজের ঘরে বসে থাকতেন এবং অতীতের স্মৃতি তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াত।
অনিতার মতে, বলিউডে সাফল্য, জনপ্রিয়তা এবং মানুষের ভালবাসা একসময় রাজেশ খান্নার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জৌলুস ফিকে হয়ে যায়। কাজ কমতে থাকে, ব্যক্তিগত জীবনেও নানা টানাপোড়েন দেখা দেয়। সেই পরিবর্তন তিনি মেনে নিতে পারেননি বলেই দাবি করেন অনিতা।
তিনি আরও বলেন, রাজেশ খান্না বারবার অতীতের সোনালি দিনের কথা মনে করতেন। কীভাবে একসময় তাঁর একটি হাসি বা হাত নাড়াতেই হাজার হাজার অনুরাগী উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠতেন, সেই স্মৃতিই তাঁকে কষ্ট দিত। অনিতার দাবি, এই মানসিক যন্ত্রণাই ধীরে ধীরে তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়।
অনিতা আডবানী দীর্ঘদিন নিজেকে রাজেশ খান্নার সঙ্গী বলে দাবি করেছিলেন। তাঁর কথায়, শেষ জীবনে অভিনেতার পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে রাজেশ খান্নার পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে একসময় বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। অভিনেতার মৃত্যুর পর সম্পত্তির অধিকার নিয়ে আইনি লড়াইয়েও জড়িয়েছিলেন অনিতা, যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মামলায় সফল হননি।
২০১২ সালের ১৮ জুলাই, ৬৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজেশ খান্না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল গোটা দেশ। আজও 'আনন্দ', 'আরাধনা', 'অমর প্রেম', 'কাটি পতঙ্গ'-এর মতো একের পর এক কালজয়ী ছবির মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি দর্শকের হৃদয়ে অমর হয়ে রয়েছেন।
















