মোক্ষের দুয়ার 'যমদ্বার', দ্বাররক্ষী স্বয়ং যম, কৈলাস পর্বতের এই স্থান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৮ জুলাই ২০২৬ ২০ : ০৭
শেয়ার করুন
1
13
বিশ্বের খুব কম জায়গাই রয়েছে, যা কৈলাস পর্বতের মতো একইসঙ্গে রহস্যময় এবং পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই পর্বতই মহাদেব শিবের আবাস।
2
13
দুর্গম অবস্থান সত্ত্বেও প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেন। এই পবিত্র যাত্রাপথেই পড়ে যমদ্বার, যা কৈলাস পরিক্রমার সূচনাস্থল এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি স্থান।
3
13
যমদ্বার, অর্থাৎ ‘যমের দ্বার’ বা ‘ঈশ্বর ও মৃত্যুর প্রবেশদ্বার’, তিব্বতের নগারি (Ngari) অঞ্চলের তারবোচে (Tarboche)-এ অবস্থিত।
4
13
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৭৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই স্থানটি দারচেন (Darchen) বেস ক্যাম্প থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তরে। এখান থেকেই শুরু হয় কৈলাস পর্বতের পবিত্র পরিক্রমা।
5
13
নাম থেকেই বোঝা যায়, যমদ্বারকে মৃত্যুর দেবতা যমরাজের প্রবেশদ্বার বলে মনে করা হয়। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাদেবের এই পবিত্র ভূমির রক্ষক স্বয়ং যমরাজ।
6
13
এই দ্বার অতিক্রম করা মানে পার্থিব মোহ-মায়া ত্যাগ করে এক নতুন আধ্যাত্মিক জীবনের পথে যাত্রা শুরু করা। শুধু হিন্দুদের কাছেই নয়, বৌদ্ধ, জৈন এবং বন (Bon) ধর্মের অনুসারীদের কাছেও এই স্থান অত্যন্ত পবিত্র।
7
13
তিব্বতি বৌদ্ধদের মতে, কৈলাস হল বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের ধ্যানদেবতা দেমচোক (Demchok)-এর আবাস। তাই প্রতি বছর তারবোচেতে একটি নতুন প্রার্থনা-পতাকা (Prayer Flag) স্থাপন করা হয়।
8
13
এই রঙিন তিব্বতি পতাকাগুলির প্রতিটি রঙের বিশেষ অর্থ রয়েছে। নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো হয়—নীল, সাদা, লাল, সবুজ এবং হলুদ। নীল রঙ আকাশের প্রতীক। সাদা বায়ুর প্রতীক। লাল আগুনের প্রতীক। সবুজ জলের প্রতীক। হলুদ পৃথিবীর প্রতীক।
9
13
এই পাঁচটি রঙ একসঙ্গে প্রকৃতির পাঁচটি মৌলিক উপাদানের ভারসাম্য এবং পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্বকে নির্দেশ করে।
10
13
হিন্দু পুরাণে বিশ্বাস করা হয়, যমদ্বার প্রদক্ষিণ করার পর মানুষের স্বর্গপ্রাপ্তির পথ সুগম হয়। আরও একটি প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দ্বার অতিক্রম করলে যমরাজের সহকারী চিত্রগুপ্ত তাঁর ‘বিচারবই’ (Book of Judgement) থেকে সেই ব্যক্তির সমস্ত পাপের হিসাব মুছে দেন।
11
13
কৈলাস পর্বতের ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ পরিক্রমা সম্পূর্ণ করতে সাধারণত ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগে। এই পথ অতিক্রম করতে হয় দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা এবং উচ্চতম দোলমা লা পাস (Dolma La Pass) পার হয়ে।
12
13
এই যাত্রা যেমন শারীরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন, তেমনই আধ্যাত্মিক দিক থেকেও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।
হিন্দু ধর্মমতে, ১০৮ বার কৈলাস পরিক্রমা সম্পন্ন করতে পারলে মোক্ষ লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
13
13
কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা শুধু একটি তীর্থযাত্রা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের এক অনন্য সাধনা হিসেবে বিবেচিত হয়।