গান দিয়ে নয়, এবার নিজের এক মন্তব্য দিয়ে বলিপাড়ায় ঝড় তুললেন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা অনুরাধা পড়োয়াল। সমকামী অধিকার এবং আধুনিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। সমাজমাধ্যমে রীতিমতো ট্রোলের মুখে পড়তে হচ্ছে ‘আশিকি’ খ্যাত এই গায়িকাকে।

ঠিক কী ঘটেছে? সম্প্রতি একটি বিনোদনমূলক পডকাস্টে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন অনুরাধা পড়োয়াল। সেখানে বর্তমান সময়ের লাইফস্টাইল, প্রেম এবং বিয়ে নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দিচ্ছিলেন তিনি। কথা প্রসঙ্গে আজকের যুগের বিয়ে ভাঙার ট্রেন্ড নিয়ে বলতে গিয়েই তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করে বসেন।

গায়িকার মতে, সমাজে যখন থেকে ‘লিভ-ইন রিলেশনশিপ’ এবং ‘সমকামী অধিকার’-এর মতো বিষয়গুলোকে আইনি বা সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, তখন থেকেই নাকি সনাতন বিবাহ ব্যবস্থার ভিত নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে! অনুরাধা বলেন, "এই ধরণের আধুনিক সংস্কৃতির বাড়বাড়ন্তের কারণেই বিয়ের মতো সম্পর্কের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে এবং পারিবারিক মূল্যবোধ নষ্ট হচ্ছে।"

গায়িকা তাঁর বক্তব্যে প্রশ্ন তোলেন, "বিয়ের আর সেই পবিত্রতা অবশিষ্ট নেই। এর কারণ হল এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে দেওয়া বিভিন্ন অধিকার। তারা সমাজে কীভাবে অবদান রাখছে? আমি তা জানতে চাই। ঠিক কোন উপায়ে তারা অবদান রাখছে? একজন ছেলে ও মেয়ের বিয়ে এবং সংসার শুরু করার বিষয়টি ঠিক আছে; তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। কিন্তু এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে আমি প্রায়ই এমন সব বিষয় দেখছি। যা সমাজের কল্যাণে কীভাবে অবদান রাখছে? হয়তো কোনও বিষয় আমার নজর এড়িয়ে গিয়েছে, কিন্তু তারা আসলে সমাজে কীভাবে অবদান রাখছে?"

বলিউডের এই সিনিয়র গায়িকার মুখ থেকে এমন মন্তব্য শুনে নেটপাড়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ কমিউনিটি এবং আধুনিক মনস্ক নেটিজেনরা গায়িকাকে একহাত নিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেল থেকে শুরু করে ইনস্টাগ্রাম, সর্বত্রই শুরু হয়েছে সমালোচনা। অনেকেরই বক্তব্য, "দুটি মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া বা সমস্যার কারণে বিয়ে দুর্বল হয়। এর সঙ্গে সমকামী অধিকারের কী সম্পর্ক?" আবার কেউ কেউ লিখেছেন, "অনুরাধা পাড়োয়ালের গান আমাদের ভীষণ প্রিয়, কিন্তু ওঁর এমন চিন্তাভাবনা সত্যিই হতাশাজনক।"

তবে বিনোদন জগতের একাংশ গায়িকার সমর্থনেও মুখ খুলেছেন। তাঁদের দাবি, অনুরাধা কাউকে আঘাত করতে চাননি, তিনি কেবল ভারতীয় সংস্কৃতির বিলুপ্তি এবং পুরনো পারিবারিক কাঠামো ভেঙে যাওয়া নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।