ছয়ের দশকের শেষভাগে আবির্ভাব, আর তারপরই একপ্রকার তাঁর সৌজন্যেই বলিউডে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। তাঁর নাম,রাজেশ খন্না।  ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের প্রথম সুপারস্টার! শুধু বক্স অফিস সাফল্য নয়, জনপ্রিয় সংস্কৃতি, তারকাপূজা ও প্রিয় অভিনেতার প্রতি ভক্তদের আচরণ, উন্মাদনা...এক কোথায় একা হাতে সব কিছুর সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উজ্জ্বল আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়। বয়স বাড়ে, কাজ কমে। জীবনের শেষদিকে খুব কম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ‘কাকা’। তার মধ্যেই ছিল একটি বিজ্ঞাপনের শুট, যা হয়ে ওঠে তাঁর শেষ কাজ।

 

সেই বিজ্ঞাপনটির পরিচালক ছিলেন প্রখ্যাত বলি পরিচালক আর বালকি। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজেশ খান্নার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও তাঁর শেষ সময়ের শারীরিক অবস্থার কথা স্মরণ করেছেন ‘প্যাডম্যান’-এর পরিচালক।

 

 

বালকি জানান, রাজেশ খন্নাকে তিনি কখনও ‘কাকা’ বলে ডাকেননি। তাঁর কথায়, “আমি সব সময় তাঁকে ‘স্যার’ বলেই সম্বোধন করেছি।” রাজেশের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি রোমন্থন করে পরিচালক বলেন, তিনি রাজেশ খান্নাকে সেই বিজ্ঞাপনের চিত্রনাট্য পড়ে শোনান। অভিনেতা সেটি শুনে হেসে ওঠেন। বালকি তখন মজা করেই জিজ্ঞেস করেন, চিত্রনাট্যটি তিনি ঠিক বুঝতে পারছেন কি না। শোনামাত্রই সেকথার উত্তরে রাজেশ খন্না পাল্টা বলে উঠেছিলেন, “বাবুমশাই, তুমি কি মনে করো, রসবোধ না থাকলে আমি সুপারস্টার হতে পারতাম?”

 

তবে সেই সময়েই দৃশ্যত স্পষ্ট ছিল, অভিনেতার শারীরিক অবস্থা একেবারেই ভাল নয়। বিজ্ঞাপনের শুটিংটি হয় বেঙ্গালুরুতে। বালকির কথায়, “তখন রাজেশ খন্নাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে আনা হয়েছিল। হাতে আইভি ড্রিপ, হুইলচেয়ারে বসেই সেটে পৌঁছন তিনি। অল্প সময়ের জন্য ড্রিপ খুলে তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেন। মনে আছে, টানা সর্বোচ্চ ৪৫ সেকেন্ড শুট করার পর আবার বিশ্রামে ফিরে যেতে হতো তাঁকে। এর বেশি একটানা শুট করতে পারতেন না তখন রাজেশ খান্না।”

 

 

এক মিনিটের বিজ্ঞাপন তৈরির জন্য হাতে ছিল মাত্র সাত মিনিটের ফুটেজ। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ শেষ করেন বালকি। বিজ্ঞাপনটি সম্পূর্ণ হওয়ার পর রাজেশ খন্না সেটি দেখেন এবং খুশিই হন। এমনকী, বালকির সঙ্গে ভবিষ্যতে একসঙ্গে ছবি করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।কিন্তু রাজেশের সে ইচ্ছা আর বাস্তবায়িত হয়নি। বিজ্ঞাপনটি মুক্তির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই, ২০১২ সালের ১৮ জুলাই প্রয়াত হন বলিউডের এই প্রথম সুপারস্টার।

 

বালকির কথায়, এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। তিনি বলেন, “আমি তাঁকে জীবনের সবচেয়ে দুর্বল, ভঙ্গুর অবস্থায় দেখেছি। তিনি নিজেও জানতেন, তাঁর হাতে আর খুব বেশি সময়  নেই।” সেই উপলব্ধি নিয়েই শেষবারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন রাজেশ খান্না। নীরবে, সংযতভাবে, অথচ অসম্ভব মর্যাদার সঙ্গে।