২০২২ সালে শুরু হয় 'সাজঘর' ছবির শুটিং। অঞ্জন কাঞ্জিলাল পরিচালিত এই ছবিটিতে মুখ্য ভূমিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, ঐন্দ্রিলা সেন প্রমুখকে দেখা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাড়ে তিন বছর পরও শেষ হল না ছবির কাজ, দেখেনি মুক্তির আলো। কিন্তু কেন? এদিন কারণ প্রকাশ্যে এনে প্রযোজকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি ছবির পরিচালকের।
অঞ্জন কাঞ্জিলাল এদিন সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন তাঁর ছবি সাজঘর নিয়ে। সেখানেই তিনি লেখেন, 'বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তে এখন প্রতিবাদ, আলোচনা, এক পরিবারের মানসিকতা... যাতে, গিল্ড, ফেডারেশান, আর্টিস্ট ফোরাম সবাই উদ্যোগ নিয়েছে সিনেমার স্বর্নযুগ ফিরিয়ে আনার!! আমি ডিরেক্টর'স গিল্ডের একজন সদস্য। সুমনা কাঞ্জিলালের লেখা গল্প নিয়ে, আমার চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় একটি ছবি করি, 'সাজঘর'। প্রযোজনা করে সুমন সেনগুপ্ত । পরবর্তীকালে ছবিটিতে বিগ স্ক্রিন প্রোডাকশন, চন্দ্রিমা ঘোষ রায়ও যোগ দেয়। ছবিটি সম্পূর্ণ গিল্ড নিয়ে ও ফেডারেশনের সব নিয়ম মেনে তৈরী হয়। ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিত চ্যটার্জি, অঙ্কুশ হাজরা,ব ঐন্দ্রিলা সেন, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবেশ রায় চৌধুরী, অনুভব কাঞ্জিলাল, অনুষ্কা চক্রবর্তী, ভদ্রা বসু প্রভৃতি পরিচিত শিল্পী রা। ছবিটি শুরু হয় ২০২২ এ, স্যুটিং শেষ হয় ২০২৩ তে, তারপর এডিট ও হয়ে যায়। ব্যাস তারপর থেকে শুরু হয় নাটক!'
পরিচালকের আরও সংযোজন, 'প্রযোজক সুমন সেনগুপ্ত কোন শিল্পীর, এবং আমি সহ,সিনিয়র টেকনিশিয়ন দের পয়সা না দেওয়ায়, পোস্ট প্রোডাকশন এডিটএফক্স এর কাজ বন্ধ হয়ে যায়!! আজ তিন বছর ধরে ছবিটি আটকে রয়েছে, আর তার আগে ছ'বছর ধরে আমার শ্রম। যে কয়েকজন ছবিটির রাফ কাট দেখেছেন প্রত্যেকে উচ্ছসিত প্রসংশা করেছেন। বুম্বা দার মতো শ্রদ্ধেয় শিল্পী নিজেও কয়েকবার উদ্যোগী হয়ে চেষ্টা করেছেন... কিন্তু কোন ফল হয় নি। সুমন সেনগুপ্তকে কোন ভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না! আর কখনো কথা হলেই নোতুন প্রতিশ্রুতি। যাঁরা টাকা পায়, তাঁরা আমার কাছে নিয়মিত ফোন করে জানতে চাইছেন তাঁরা তাদের পারিশ্রমিক কবে পাবেন? ভদ্রা দি তো চলেই গেলেন আমাদের ছেড়ে... আমার কাছে কোন উত্তর নেই।' অঞ্জন আরও জানান, 'আমার ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরাম কে অনুরোধ, আপনারা একটু উদ্যোগী হলে হয়তো শিল্পী ও কলাকুশলী রা তাঁদের প্রাপ্য আর সিনেমা টি দর্শকের আলো দেখতে পাবে।' (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হল) প্রসঙ্গত, এই বিষয়ে লেখিকা, তথা পরিচালকের স্ত্রীর সঙ্গে আজকাল ডট ইনের তরফে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তিনি ফোনে অধরা।
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকে টলিউডের অভ্যন্তরে চলা নানা সমস্যার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। এবং সেগুলো আর্টিস্টস ফোরাম ও ফেডারেশনের তরফে উদ্যোগ নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবার এই ক্ষেত্রে কী হয় সেটাই দেখার।
















