বলিউডের অন্যতম ‘ব্যাঙ্কেবল’ তারকা হিসেবে অক্ষয় কুমারের খ্যাতি নতুন করে প্রশ্নের মুখে। পরিচালক-প্রযোজক শৈলেন্দ্র সিং সম্প্রতি অক্ষয়কে বর্ণনা করেছেন ‘অর্থলিপ্সু’ এবং ‘অভিনেতার আগে ব্যবসায়ী’ হিসেবে।
এক সাক্ষাৎকারে শৈলেন্দ্র তাঁর ২০০৯ সালের ছবি ‘৮×১০ তসভির’ ছবির কথা তুলে ধরেন। দাবি করেন, ছবিটির ব্যর্থতাই তাঁকে কার্যত সিনেমা প্রযোজনা থেকে ছিটকে দেয়। জানিয়ে রাখা ভাল, সেই ছবির প্রধান নায়কের নাম ছিল অক্ষয় কুমার! তবে শৈলেন্দ্র এও স্পষ্ট করেছেন, এই মন্তব্য ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নয়। বরং অক্ষয়কে তিনি “ভাল মানুষ” বলেই উল্লেখ করেন। দু’জনের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল, একসঙ্গে খেলাধুলাও করতেন।শৈলেন্দ্রর কথায়,“অক্ষয়ের সঙ্গে ছবি করার সুযোগ পেয়ে আমি খুশিই হয়েছিলাম। তখন ও আর নাগেশ কুকুনূর -দু’জনেই সাফল্যের শিখরে।”

তবে সমস্যা শুরু হয় এই ছবির প্রোডাকশন পর্যায়ে। শৈলেন্দ্রর দাবি, ‘৮×১০ তসভির’ প্রথমে ৩০-৩৫ কোটি টাকার একটি মাঝারি বাজেটের ছবি হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। শুটিংয়ের লোকেশন ছিল মুন্নার। কিন্তু অক্ষয়ের টাইট শিডিউলের কারণে পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হন তাঁরা।“ দক্ষিণ ভারতের মুন্নার থেকে ক্যালগারি, তারপর কেপটাউন -এভাবে একের পর এক জায়গায় শুট করতে হয়,” বলেন শৈলেন্দ্র। ফলে বলাই বাহুল্য ছবির বাজেট ফুলেফেঁপে ওঠে উল্লেখযোগ্যভাবে।
‘সিং ইজ কিং’-এর মতো সুপারহিট ছবির পর মুক্তি পেলেও ‘৮×১০ তসভির’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। শৈলেন্দ্র জানান, ছবির ব্যর্থতার পর তিনি অক্ষয়ের কাছে পারিশ্রমিকের কিছু অংশ ফেরত চেয়েছিলেন। “আমি ওকে বলেছিলাম, ‘ভাই, তোমার ছবি কেউ দেখতে আসেনি। কিছু দায় তো নিতেই হয়। তুমি আমার কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছ’।” কিন্তু তাঁর দাবি, অক্ষয় এক টাকাও ফেরত দেননি। “কিছুই পাইনি। তারপরই আমি ছবি বানানো ছেড়ে দিই!” সোজাসাপ্টা মন্তব্য শৈলেন্দ্রর।
https://www.youtube.com/shorts/qNNr5etY528
অক্ষয়ের ফি-স্ট্র্যাটেজি নিয়েও কটাক্ষ করেন শৈলেন্দ্র। “ও খুব ধীরে ধীরে দর বাড়ায়। ১৫ কোটি থেকে শুরু হয়ে ২১, তারপর ২৭, আর শেষে হঠাৎ ৩৬! কারণ ৯ নাকি ওর লাকি নাম্বার। অক্ষয় খুব স্পষ্টভাবে জানে ও ঠিক কী করছে। অভিনয়ের আগে অক্ষয় একজন ব্যবসায়ী।” এই প্রযোজক আরও জানান, তাঁর অ্যানিমেশন ছবি ‘জাম্বো’-তে একটি মাত্র গানের ভিডিওতে হাজির হওয়ার জন্য অক্ষয়কে ৯ কোটি টাকা দিতে হয়েছিল তাঁকে!
শৈলেন্দ্রর আরও বিস্ফোরক দাবি, অক্ষয়-ক্যাটরিনা অভিনীত জনপ্রিয় ছবি সিং ইজ কিং -এর নামটি তিনিই প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন। “ছবি হিট হওয়ার পর নামটা ফেরত দেওয়ার ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও দেখানো হয়নি। শেষমেশ আমাকে মামলা করতে হয়,” বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আদালতে জিতে ছবির টাইটেলের মালিকানা ফিরে পান শৈলেন্দ্র।শুধু অক্ষয় নন, জন আব্রাহামের নামও তুললেন শৈলেন্দ্র। তাঁর দাবি, জন আব্রাহামও নাকি একইভাবে দায়িত্ব নেননি। তাঁদের ছবি আশায়েঁ ফ্লপ করার পর জনও পারিশ্রমিক ফেরত দেননি বলে অভিযোগ।
এর আগেও ‘মানি-মাইন্ডেড’ তকমা নিয়ে মুখ খুলেছেন অক্ষয় কুমার। 'আপ কি আদালত'-এ তিনি বলেছিলেন, “আমি যদি টাকা উপার্জন করে থাকি, সেটা কাউকে লুঠ করে করিনি। কাজ করেই করেছি। আট বছর দেশের সর্বোচ্চ করদাতা ছিলাম। টাকা জীবনে জরুরি, বাস্তববাদী হওয়া দরকার।”
