কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সুপ্রতিম সরকার। গত শনিবারই লালবাজারে এসে এই দায়িত্বভার  নিয়েছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নয়া পুলিশ কমিশনারের নাম হিসেবে সুপ্রতিম সরকারের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। নগরপালের আসনে বসার আগে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার সুপ্রতিম সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করলেন ‘পুরাতন’ ছবি খ্যাত জনপ্রিয় পরিচালক সুমন ঘোষ। জানিয়ে রাখা ভাল, তাঁরা দু'জনেই ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজ (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যলয়)-র ছাত্র। সেকথাও নিজের পোস্টে জানিয়ে পরিচালক লিখেছেন, প্রেসিডেন্সিতে তিনি সুপ্রতিম সরকারের 'জুনিয়র' ছিলেন এবং বর্তমানে তাঁরা দারুণ বন্ধু।  

 

ফেসবুকে এই জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক লিখেছেন, “অনেকেই জানেন না সুপ্রতিম সরকারের অসাধারণ মেধা, মনন এবং বহুমাত্রিক আগ্রহের কথা। আজকের দিনে এমন মানুষ বিরল, যিনি চাইলে অর্থনীতিবিদ হিসেবে যেমন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন, তেমনই ক্রীড়া সাংবাদিকতা বা কবিতার জগতেও অনায়াসে নিজের ছাপ রাখতে পারতেন। আর এই মূল্যায়ন কিন্তু কোনও আবেগতাড়িত প্রশংসা নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে কাছ থেকে দেখা ও বিচার করার অভিজ্ঞতা থেকেই এই দাবি।

 

 

সাহিত্যপ্রেমী পাঠকের কাছে সুপ্রতিম সরকার অবশ্যই পরিচিত নাম। নন-ফিকশন লেখক হিসেবে তাঁর ‘লালবাজার ডায়েরিজ’ শুধুই বেস্টসেলার নয় এটি পুলিশের কাজের ভিতরের জগত, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং নৈতিক প্রশ্নগুলিকে সাধারণ পাঠকের কাছে সহজ অথচ গভীরভাবে তুলে ধরেছে। বাংলা ও ইংরেজি –দু’টি ভাষাতেই তাঁর দখল ঈর্ষণীয়, যা তাঁর লেখনীর মানেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

">

‘নোবেল চোর’-এর পরিচালক আরও জানান, ব্যক্তিগত পরিসরে সুপ্রতিম সরকারের চিন্তাশীল মতামত ও নির্মোহ সমালোচনার সুফল পেয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে সমসাময়িক সামাজিক প্রশ্ন -সব ক্ষেত্রেই তাঁর বিশ্লেষণ বরাবরই ছিল তীক্ষ্ণ, যুক্তিনির্ভর এবং মানবিক। একেবারে শেষে ‘কাবুলিওয়ালা’ ছবির পরিচালকের সংযোজন, “এই শহরের জন্য, এই সময়ের জন্য কলকাতা সত্যিই গর্ব করতে পারে এমন একজন বিদ্বান, মননশীল মানুষকে তার পুলিশ কমিশনার হিসেবে পেয়ে।”