দীর্ঘ প্রতীক্ষা, জল্পনার অবসান। টেলিভিশনে প্রত্যাবর্তন অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের। সৌজন্যে ‘কমলা নিবাস’। এই ধারাবাহিকের সৌজন্যে প্রতি সন্ধ্যায় বাঙালির ড্রইং রুমে পৌঁছে যাবেন পরমব্রত। ১৩ এপ্রিল সোমবার থেকে শুরু হবে নতুন ধারাবাহিকের সম্প্রচার। প্রথমবার দেবাদৃতা বসুর সঙ্গে জুটি বেঁধে দর্শকের দরবারে হাজির হবেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অনেকদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে পরমব্রতর ধারাবাহিকে কামব্যাকের কানাঘুষো। অবশেষে জল্পনায় সিলমোহর। প্রকাশ্যে ‘কমলা নিবাস’ পরমব্রতর লুক। নতুন জুটিকে দেখতে মুখিয়ে রয়েছে দর্শক। 'কমলা নিবাস'-এ একটি সংস্থার উচ্চ আধিকারিকের চরিত্রে দেখা যাবে পরমব্রতকে,নাম -সাগর বসু মল্লিক। জানিয়ে রাখা ভাল, দেবাদৃতা বসুও টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। ‘মিঠিঝোরা’ ধারাবাহিকে শেষবার দেখা যায় তাঁকে।

 

চ্যানেলের তরফে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ছোটপর্দায় কামব্যাকের খবরে সিলমোহর দিয়েছেন খোদ পরমব্রত। সিনেমা আর সিরিজের ব্যস্ততা সামলে কেন হঠাৎ ছোটপর্দায়? পরমব্রত নিজেই জানিয়েছেন তার নেপথ্য কারণ। এই অভিনেতা-পরিচালক জানালেন, ধারাবাহিকে কাজ করার বেশ কিছু শর্ত থাকে। সেসব মাথায় রাখার পরেও কমলা নিবাস-এর গল্প তাঁকে মুগ্ধ করেছে। আর পাঁচটা তথাকথিত ধারাবাহিকের মতো এর গল্পবিন্যাস নয়। বরং বেশ অন্যরকম। 
এবং দ্বিতীয় কারণ হল - সোহিনী সেনগুপ্ত ও দেবশঙ্কর হালদারের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ। পরম জানান, এই দুই অভিনেতা-অভিনেত্রীকে অত্যন্ত সম্মান করেন তিনি। বছরের পর বছর নানান ধরনের চরিত্রে নিজেদের পেশ করার সুবাদে তাঁদের দু’জনের প্রতি পরমের সেই শ্রদ্ধা সম্ভ্রমে পরিণত হয়েছে।  

 

 

'কমলা নিবাস'-এর প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জনতামহলে এই ধারাবাহিককে ঘিরে আগ্রহের পারদ চড়ছিল। কারণ ধারাবাহিকের মুখ্যচরিত্রে দেখা যাবে দেবশঙ্কর হালদার এবং সোহিনী সেনগুপ্ত-কে। 

 

 

ধারাবাহিকের  গল্প আবর্তিত হবে ‘শ্রীনিবাস গুহ’ এবং তাঁর স্ত্রী ‘কমলা’কে ঘিরে। শ্রীনিবাস নিছকই এক মধ্যবিত্ত মানুষ। সংসারের দায়দায়িত্ব পালন করতে করতে কখন যে তাঁর বয়স বেড়ে গিয়েছে বুঝতে পারেননি। বুঝতে পারেননি বাজারদরও কবে বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু জীবনের এই প্রায় শেষ লগ্নে এসে দাঁড়িয়েও তাঁর একটাই স্বপ্ন, তাঁর স্ত্রী কমলার জন্য একটা বাড়ি বানিয়ে দেওয়া। নিজেদের একটা বাড়ি গড়ে তোলা। এই চরিত্রে দেখা যাবে দেবশঙ্কর হালদারকে। অন্যদিকে ছাপোষা, সাধারণ মধ্যবিত্ত গৃহবধূ হলেন কমলা। সে পরিবারের মঙ্গল কামনা করতে মন্দিরে এসেছে পুজো দিতে। একই সঙ্গে পুরোহিতকে ৩ মেয়েদের কুষ্ঠী দিয়ে যান, ভাল পাত্র খুঁজে দেওয়ার জন্য। তাঁর একটাই স্বপ্ন, তিন মেয়েকে ভাল ঘর, বরে বিয়ে দেওয়া। মেয়েরা যেন সুখে সংসার করে। কমলার চরিত্রে দেখা যাবে সোহিনী সেনগুপ্তকে। দু'জনের স্বপ্ন দুই রকমের। কিন্তু তাও তাদের একে অপরের প্রতি ভালবাসা, টান, অমোঘ। এমন অবস্থায় দু’জনের মধ্যে কার স্বপ্ন আগে পূরণ হয় সেটাই দেখার। জানা গিয়েছে, যৌথ পরিবারের টানাপোড়েন, ভালবাসা, অভিমান আর সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে টেলিভিশনের পর্দায়।

 

‘এক আকাশের নীচে’-সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু, বর্তমানে সিনেমা, সিরিজে অভিনয়-পরিচালনা-প্রযোজনা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। নতুন বছরে ছোট পর্দায় নতুনভাবে পরমব্রতর গ্র্যান্ড কামব্যাকে খুশির আবহ বাঙালির ড্রইংরুমে।পরমব্রতর প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে এই ধারাবাহিকে যোগ করবে নতুন মাত্রা।