‘সাথী’ হয়ে পথচলা শুরু করে একেবারে টলিউডের বস হওয়া। এ বুঝি জিৎ-কেই মানায়। সাল-তারিখের হিসেব বলছে, বাংলা সিনেমার অন্যতম এই তারকা এদিন পা দিলেন ৪৭-এ। তবে জন্মদিনে মধ্য বয়সের দ্বার প্রান্তে আসা কোনও মানুষ হিসেবে নয়, একেবারে নয়া অবতারে সমাজমাধ্যমে হাজির হলেন জিৎ! মুক্তি পেল তাঁর নতুন ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-র ফার্স্ট লুক টিজার। ধুতি-কুর্তা, গায়ে আলোয়ান, কিন্তু এই সাজে কোথাও নরম ভাব নেই। নিজস্ব ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ ছন্দে, চোখে আগুন, শরীরে বিপ্লব-একেবারে অন্য জিৎ। ফেসবুকে এই টিজার পোস্ট করে জিৎ লিখলেন, “ক্ষমতা যখন পিষে দেয় দুর্বলকে, তখন জন্ম নেয় অনন্ত - যাকে কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত!”

 

 

 

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম নায়ক বিপ্লবী অনন্ত সিংহ, তাঁর জীবনী অবলম্বন করেই নতুন ছবি তৈরি করছেন পরিচালক পথিকৃৎ বসু। এই ছবিরই মুখ্যভূমিকায় রয়েছেন জিৎ। স্বাধীনতা সংগ্রামী থেকে ব্যাঙ্ক ডাকাতি, সেখান থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক হয়ে ওঠা- অনন্ত সিংহের যাত্রা কোনও রূপকথার থেকে কম রংদার, কম  বিস্ময়কর নয়। ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে শান্তনু মৈত্র। মাস্টারদা সূর্য সেনের ছত্রছায়ায়, তাঁর নির্দেশে ধীরে ধীরে স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়েছিলেন অনন্ত সিংহ, সেকথাও তুলে ধরা হবে এই ছবিতে।

 

 

‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবিতে দু’টি সময়কাল ধরা রয়েছে। একটিতে দেখা যাচ্ছে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে হাতে বন্দুক তুলে নেওয়া, অস্ত্রাগার লুন্ঠনের অন্যতম কারিগর চট্টগ্রাম জেলের মধ্যে নির্মম অত্যাচার সহ্য করেও হার না মানা যুবক অনন্তকে আবার আরেক সময়কালে দেখা যাচ্ছে কাঁচাপাকা চুলদাড়ির প্রৌঢ় অনন্তকে। স্বাধীনোত্তর ভারতে তাঁকে ডাকাত বলেও কটাক্ষ করে কেউ, কেউ। তবে তাতে দমবার পাত্র অনন্ত নন। আর প্রৌঢ়ের ব্যাকরণ মেনে তিনি সেই নুয়ে আসা প্রৌঢ় নন! স্টাইল থেকে পেশির শক্তিতে অনন্ত যেন বিপ্লবের মূর্ত প্রতীক! 

 

ফার্স্ট লুক টিজারে জিতের নজরকাড়া অ্যাকশন ছাড়াও গমগম করছে ছবির আবহসঙ্গীত। শোনা গিয়েছে টোটা রায়চৌধুরীরর কণ্ঠও। দুরন্ত অ্যাকশনের পাশাপাশি ছবিতে যে ভিএফএক্স-এর ভালরকম ব্যবহার করা হবে, তা এই টিজার থেকেই স্পষ্ট। এককথায় এই টিজারে রয়েছে নজরকাড়া অ্যাকশন, ভারী আবহসঙ্গীত আর চোখে পড়ার মতো ভিএফএক্স। প্রথম ঝলকেই স্পষ্ট, বড় স্কেলে বানানো হচ্ছে এই ছবি।এবং ছবি যে মুক্তি পাচ্ছে আগামী বছর, তাও দৃপ্ত ভঙ্গিমায় ঘোষণা করা হল টিজার ভিডিওর একেবারে শেষে।

৪৭-এ পা দিয়ে জিৎ যেন স্পষ্ট বার্তা দিলেন- বয়স সংখ্যা হতে পারে, কিন্তু বিপ্লবের বয়স হয় না।