নাট্যব্যক্তিত্ব দেবশঙ্কর হালদারের জন্মদিন আজ। এদিন অর্থাৎ ৮ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার ৬০-এর চৌকাঠ ছুঁলেন তিনি। শুধুই মঞ্চ নয়, বড়পর্দাতেও সমান সফল তিনি। পাশাপাশি রয়েছে ছোটপর্দায় সঞ্চালনাও। অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন নান্দীকারের হাত ধরে। ‘নান্দীকার’কে বড় করেছেন যিনি, সেই রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে এদিন ভাগ করে নিলেন তাঁর 'দেবু'কে নিজের চিন্তাভাবনা। জানালেন, জন্মদিনের শুভেচ্ছা। 

 

৯০ ছুঁয়ে ফেলা এই কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্বের স্মৃতি থেকে গলার আওয়াজ আজও ঝকঝকে। কণ্ঠে স্পষ্টতা রেখে তিনি বললেন, “দেবশঙ্কর একজন অত্যন্ত একজন পরিষ্কার মনের লোক। ওঁর ব্যক্তিত্বও পরিছন্ন। নাটকের প্রতি ওর শ্রদ্ধা দেখার মতো। এবং তারই সঙ্গে সবকিছু যাতে ভাল হয়, সেটা ওর নজরে থাকে। বলতে চাইছি, কাজের জায়গাতেও অন্য কারও যেন কোনও অসুবিধে না হয়, সেটা ও খেয়াল রাখে। এটা কিন্তু খুব বিরল গুণ মানুষের। আর অভিনেতা হিসেবে ও যেমন আত্মবিশ্বাসী, তেমন-ই শক্তিশালী। শারীরিকভাবে তো বটেই, মানসিকভাবেও ভীষণ স্ট্রং ও। ওকে জন্মদিনের একরাশ শুভেচ্ছা,ভালবাসা জানাই। আই উইশ হিম অল দ্য বেস্ট।” 

 

 

খানিক থেমে এই কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব ফের বলে ওঠেন, “তবে, ওর একটি বিষয় নিয়ে আমার একটি প্রশ্ন আছে। ঠিক প্রশ্ন নয়, বলতে পারেন ভাবনা। এবং তা খানিক জট পাকিয়ে আছে। ও যে কত জায়গায় অভিনয় করে...আর তার ফলে কী হয় নতুন কিছু ছেলেমেয়েরা দেবশঙ্কর হয়ে ওঠার সুযোগটা পাচ্ছে না! তবে সেই প্রশ্নের মধ্যেই রয়েছে বাস্তবের স্বীকৃতি। রুদ্রপ্রসাদ নিজেই স্বীকার করেন, “তবে দেবশঙ্করও বা কী করে? এটাও তো ঠিক আজ ওর এত নামডাক হয়েছে এবং ওর যোগ্যতাও আছে। তাই ওরও হয়তো ইচ্ছে হতে পারে যে আরও একটু বেশি সংখ্যক দর্শকের কাছে, মানুষের কাছে পৌঁছই। কাজেই সেইদিক থেকে দেবশঙ্করকে মোটেও দোষ দেওয়া যায় না। ওঁর চাওয়াটাও তাই অন্যায্য নয়। তবে কী জানেন...ও অনেক জায়গায় অভিনয় করলে বহু বাচ্চা ছেলেমেয়ে হয়তো সেই সুযোগটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আবার দেবশঙ্কর যদি নিজেকে প্রকাশ করার জন্য বহু জায়গায় অভিনয় করে, তাতেও ওকে দোষ দিতে পারি না।এই বিষয়টি কিন্তু আমাকে ভাবায়। চিন্তা হয়।” এই দ্বন্দ্ব, একদিকে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর বিস্তার অন্যদিকে নতুনদের সুযোগ এই জায়গাটাই তাঁকে ভাবায় বলে জানান রুদ্রপ্রসাদ।  

 


“এই ফাঁকে বলে রাখি, ‘নান্দীকার’-এ ও যত নাটকে অভিনয় করেছে, তার মধ্যে ‘অন্ত আদি অন্ত’-তে ওর পারফরম্যান্স আমার সবথেকে প্রিয়। আর একটা কথা, ও যে ৬০-এ পড়ল আমি জানি। কিন্তু ওর ব্যবহার, চলাফেরা তো ৩০ বছর বয়সী ছেলের মতো। তাই বলব, বেশ তো বয়সটাকে লুকিয়ে রেখেছে সুন্দরভাবে!” হাসতে হাসতে বলে ওঠেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত।