বৃহস্পতিবার বান্দ্রার তাজ ল্যান্ডস এন্ড হোটেলে প্রয়াত সুপারস্টার ধর্মেন্দ্রের জন্য প্রার্থনা সভার আয়োজন করেন তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও দুই ছেলে সানি দেওল এবং ববি দেওল। একই দিনে ধর্মেন্দ্রের দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনী ও তাঁদের দুই কন্যা এষা এবং অহনা দেওল নিজেদের বাসভবনে পৃথকভাবে একটি প্রার্থনা সভা করেন।

হোটেলে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন শাহরুখ খান, অভিষেক বচ্চন, সলমন খান, রেখা, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা-সহ বহু বলিউড তারকা। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন পরে ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানাতে হেমা মালিনীর বাড়িতেও যান। অভিনেত্রীর বাড়ির বাইরে দেখা যায় গোবিন্দার স্ত্রী সুনীতা আহুজা এবং তাঁদের ছেলে যশবর্ধন আহুজাকে।

ধর্মেন্দ্র অভিনীত ২০২৩ সালের ‘রকি অউর রানী কি প্রেম কাহানি ’ ছবির পরিচালক করণ জোহরও সানি ও ববির আয়োজিত প্রার্থনা সভায় উপস্থিত হন। তবে সভার একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি গাড়ির ভিতরে বসে কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতে হাসছেন। এই দৃশ্য দেখে নেটিজেনদের একাংশের ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বেইমান হাসছে।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘একে দেখে একদমই মনে হচ্ছে না যে সে কোনও প্রার্থনা সভায় যাচ্ছে বা তার মনে সামান্যতম দুঃখও আছে।’ আরেকটি প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, ‘নির্লজ্জ করণ জোহর হাসছে। সে কি এই সভায় থাকার যোগ্য, নাকি ধর্মেন্দ্রর লাখো ভক্তকে বরং সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল?’ ক্ষুব্ধ এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘এই ক্লাউনদের কোনও লজ্জা নেই। সে জানেই না কোথায় যাচ্ছে—ককটেল পার্টিতে, নাকি এমন এক মানুষের প্রার্থনা সভায় যাঁকে গোটা বিশ্বের লাখো ভক্ত ভালবাসতেন।”

ধর্মেন্দ্র ২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি রেখে গেলেন দুই স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও হেমা মালিনী এবং ছয় সন্তানকে। তাঁর শেষ অভিনীত ছবি ‘ইক্কিস’। এটি একটি পিরিয়ড ওয়ার ড্রামা যা ২৫ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে।

 ছয় থেকে নয়ের দশক পর্যন্ত ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সুদর্শন পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হত। এবং তিনি বলিউডে পরিচিত ছিলেন ‘হি-ম্যান’ নামে। আদ্যোপান্ত ‘মশালাদার’ বাণিজ্যিক ছবিকে তিনি এমন সহজাত দক্ষতায় সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন যে, মানুষ তাঁর অভিনয়ে খুঁজে পেত নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি। শহর হোক বা গ্রাম, ধনী হোক বা সাধারণ মানুষ— ধর্মেন্দ্র ছিলেন সকলের আপনজন। সেই সময় রিকশার পিছনের পোস্টার থেকে শুরু করে অষ্টাদশীর বইয়ের পাতার ফাঁকেও জায়গা ছিল তাঁরই ছবির। যেন ধর্মেন্দ্র শুধু পর্দার নায়ক নন, সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা এক আবেগ, এক মুগ্ধতা।