বলিউডে কাজের সময় নিয়ে যে বিতর্ক গত বছর শুরু হয়েছিল, তা এখনও থামেনি। আর সেই বিতর্কেই এবার নতুন মাত্রা যোগ করলেন পরিচালক মোহিত সুরি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন, যা শুনে চোখ কপালে ওঠারই জোগাড়। তাঁর কথায়, একসময় তিনি এমন শুটিংও করেছেন, যেখানে ইমরান হাশমি টানা ২৪ ঘণ্টা কাজ করেছেন!

সে জনপ্রিয় ছবি মোহিতের-ই পরিচালনা ছিল। নাম, ‘আওয়ারাপান’। একটি অত্যন্ত দামি লোকেশন, হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট, যা মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য পাওয়া গিয়েছিল। এক সেকেন্ড সময় নষ্টের সুযোগ ছিল না। তাই সেই পুরো সময়টাই শুটিংয়ে ব্যবহার করা হয়। আর সেই ম্যারাথন শিডিউলেই একটানা কাজ করে গিয়েছিলেন ইমরান।

তবে এখানেই থামেননি মোহিত। ৮ ঘণ্টার শিফট বিতর্ককে তিনি সরাসরি “ইগো ইস্যু” বলেই উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য,অভিনেতারা কতক্ষণ কাজ করবেন, তা নিয়ে এত আলোচনা হলেও, আসল সমস্যাটা অন্য জায়গায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ১২ ঘণ্টার শিফট মানে আসলে ১৪-১৫ ঘণ্টা কাজ। কারণ শুটিংয়ের আগে-পরে লোডিং, আনলোডিং, সেট আপ, এইসব মিলিয়ে সময় আরও বেড়ে যায়। অথচ সেই অতিরিক্ত পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য অনেক সময়ই পান না ইউনিটের সদস্যরা।

মোহিতের কথায়, ঘড়ি ধরে শুটিং করব -এই আলোচনাটা শুধু অভিনেতাদের ঘিরে থাকলে চলবে না। পুরো শুটিং ইউনিটের মানবিক দিকটাও দেখতে হবে। তিনি নিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর থাকার দিনগুলোর কথাও মনে করিয়ে দেন, যখন শুটিং শেষ হওয়ার পরেও বৃষ্টি ভেজা রাতে ইউনিট গুটোনো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ভুলে যাচ্ছি এটা শুধু তারকাদের বিষয় নয়, এটা পুরো টিমের বিষয়।”

তবে ৮ ঘণ্টার শিফটের বিরোধী তিনি নন। তাঁর মতে, যদি ৮ ঘণ্টায় কাজ শেষ করা যায়, তাতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বিষয়টা শুধুমাত্র “অভিনেতাদের বিউটি স্লিপ” ঘিরে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, কাজটা কতটা হচ্ছে সেটা দেখতে হবে। উল্লেখ্য, গত বছর দীপিকা পাড়ুকোন-র ৮ ঘণ্টার শিফট দাবিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় এই বিতর্ক। শোনা যায়, স্পিরিট ছবির কাজ ছাড়েন তিনি এই ইস্যুতেই। পরে তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় তৃপ্তি দিমরি-কে।এই ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা শুরু হয় পেশাদারিত্ব, পারিশ্রমিক এবং কাজের সময়, সবকিছু নিয়েই।

এদিকে, ইমরান হাশমি-র কেরিয়ারেও এখন ব্যস্ত সময়। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কোর্টরুম ড্রামা ‘হক’ এবং ওয়েব সিরিজ ‘তস্করি: আ স্মাগলার্স’ ওয়েব-এ তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত আওয়ারাপান ২-এর কাজ নিয়ে। সব মিলিয়ে, বলিউডে কাজের সময় নিয়ে এই বিতর্ক এখন আর শুধু সময়ের হিসেব নয়। বিষয়টি ধীরে ধীরে মানবিকতা বনাম পেশাদারিত্বের বড় প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে।