ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একের পর এক বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করে নেওয়া মিথিলা পালকর এখন তাকিয়ে রয়েছেন তাঁর পরবর্তী ছবি ‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’-এর মুক্তির দিকে। বীর দাসের সঙ্গে জুটি বেঁধে এই ছবিতে অভিনয় করছেন তিনি। ছবিটি ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে, কারণ এই ছবির মাধ্যমেই বড়পর্দায় প্রত্যাবর্তন করছেন ইমরান খান, আর প্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন আমির খান। সম্প্রতি নিজের কেরিয়ার জার্নি, স্মরণীয় সহ-অভিনেতা এবং প্রিয়দর্শনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন মিথিলা।
সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমির খানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে মিথিলা বলেন, “আমির স্যারের সঙ্গে খুব সহজভাবেই কথা-আড্ডা দেওয়া যায় এবং উনি যারপরনাই উৎসাহ দেন। অডিশনের পরই যখন জানানো হয় যে আমি এই প্রজেক্টের অংশ, তখন তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসটা তখন আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার ছিল।”
‘হ্যাপি প্যাটেল: খতরনাক জাসুস’-এর জন্য নিজের কমফোর্ট জোন ভাঙার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। বিশেষ করে পর্দায় আগ্রাসী বা মুখোমুখি দৃশ্যগুলি তাঁর কাছে সহজ ছিল না। “গালাগালি করা, হঠাৎ হাসা বা রেগে যাওয়া, এসব ব্যাপার আমার স্বভাবজাত নয়। কিন্তু আমি চরিত্র আর পরিচালকদের উপর পুরোপুরি ভরসা রেখেছিলাম, তারপর স্রেফ যেমন চলেছে সবকিছু তার সঙ্গে তাল নিলিয়ে এগিয়ে গিয়েছি”, বললেন মিথিলা। এরপর খানিক হেসে যোগ করেন, “গালাগাল দেওয়া কঠিন ছিল ঠিকই, কিন্তু তার থেকেও কঠিন ছিল বীর দাসকে ঠাটিয়ে চড় মারা! খুব অপরাধবোধ হচ্ছিল। তবে বীর আমাকে বলেছিল, 'একেবারে চিন্তাভাবনা, কুণ্ঠা ছেড়ে দাও, করে ফেলো। ”
এই ছবির হাত ধরেই আবার একসঙ্গে কাজ করছেন মিথিলা ও ইমরান খান। এর আগে ‘কাট্টি বাট্টি’ ছবিতে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
ইমরান প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, “ইমরান ভীষণই বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ। ওঁর সঙ্গে দেখা হলে শুধু গল্প শুনতে আর কথা শুনতেই ইচ্ছে করে, ওঁর নানারকম অভিজ্ঞতা আছে, যা খুবই ইন্টারেস্টিং।”
বলিউডে নিজের শুরুর দিনগুলোর কথাও মনে করেন মিথিলা। “ওটাই ছিল আমার প্রথম বলিউড ছবি। ইমরান আমাদের সবাইকে এমন স্বচ্ছন্দ করে দিয়েছিল যে কখনও মনে হয়নি আমি নতুন, বা কেউ আমার সঙ্গে কথা বলছে না” বললেন মিথিলা। এরপর কথায় কথায় একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিও ভাগ করে নিয়ে তিনি জানান, “‘কাট্টি বাট্টি’-তে ইমরান আমার দাদার চরিত্রে ছিল। আর ওর অনেক তুতো হয়-বোনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি বলে অজান্তেই ওকে ‘ইমরান ভাই’ বলে ডাকতে শুরু করি। এখনও ওকে আমি বড়দাদা হিসেবেই দেখি।”
কেরিয়ারের শুরুর লড়াই নিয়েও খোলামেলা মিথিলা। “সব অডিশন যে কাজ এনে দিয়েছে, তা নয়। শুরুর দিকে মাসের পর মাস শুধু শুনতাম-‘শর্টলিস্টেড’। তারপর আর কোনও খবর থাকত না। ”স্বীকার করলেন তিনি। তবে আজকের জায়গায় পৌঁছতে পেরে কৃতজ্ঞ অভিনেত্রী। তাই তো তিনি বললেন, “সেই সব অপেক্ষা, হতাশা সব কিছুর পর কাজ পাওয়া সহজ হয়নি। অনেক সময় লেগেছে। আজ যেখানে আছি, তার জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ।”
এরপর প্রিয়দর্শন পরিচালিত ‘ভূত বাংলা’ ছবিতে মিথিলাকে দেখা যাবে অক্ষয় কুমার ও পরেশ রাওয়ালের সঙ্গে। সেই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রিয়দর্শন স্যার, অক্ষয় আর পরেশ স্যারের কাজ দেখাটা সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা। প্রিয়দর্শন স্যারের ছবি মানেই যেন একটা আলাদা ছবির ঘরানা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ওঁদের মধ্যে যে বোঝাপড়া, সেটা অসাধারণ। এত বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করার ফলেই এই র্যা পোর্ট। দেখার মতো, শেখার মতো।” সব মিলিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা এক কথায়, “পুরো ইউনিটটা যেন একটা ওয়েল-অয়েল্ড মেশিন। ওঁরা খুব কম কথা বলেই বুঝে যান কে কী চাইছেন।”
