২৯ মার্চ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে প্রাণ হারান। এই ঘটনা টলি পাড়ায় প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন টেকনিশিয়ানরা। রাহুলের মৃত্যুর পর এবার শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানরা যৌথ ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কাজের জায়গায় যথাযথ নিরাপত্তা না পেলে এবং সেই সংক্রান্ত বিবৃতি লিখিত আকারে না পেলে তাঁরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। এদিন মিটিং চলছে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে। তারপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এদিনের এই মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারছেন না মানসী সিনহা। সেই প্রসঙ্গে কী জানালেন?
এদিন সমাজমাধ্যমে মানসী সিনহা লেখেন, 'নিতান্ত ব্যক্তিগত কারণে আজকে টেকনিশিয়ান স্টুডিও তে আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হল না। যদিও আমি এমন কিছু একজন মানুষ নই, যে আমি না গেলে মিটিংটা ব্যাহত হবে। তাহলে এই পোস্টটা কিসের জন্য? এই জন্য যে, আমি জানাতে চাই.. সর্বতো ভাবে, দ্বিধাহীন ভাবে আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আছি।'
তাঁর আরও সংযোজন, 'কর্মবিরতি' এক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। রাহুলের জন্য। সবার জন্য। ব্যক্তিগত ভাবে বহু অবহেলার শিকার আমিও হয়েছি। আমিও মেনে নিয়েছি। ভুল করেছি। অনেক আগেই প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। ভুল স্বীকার করছি এবং এটাও বলছি ভবিষ্যতে এ ভুল আর হবে না, তাতে যা হয় হোক। আজকের মিটিং সুসম্পন্ন হোক। সঠিক সিদ্ধান্তে আমি সহমত, এবং.. যাঁরা যাঁরা ভয় পেলেন এই সিদ্ধান্তে নিজেদের সংযুক্ত করতে, তাঁদের প্রতি আমার করুণা রইলো।' (পোস্টদাতার বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হল)
প্রসঙ্গত, ২৯ মার্চ তালসারিতে ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এদিন জলে ডুবে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রও। তবে তাঁকে কোনও মতে বাঁচানো গিয়েছে কলাকুশলীদের তৎপরতায়। এরপরই আউটডোর শুটিংয়ে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই কারণেই এদিন টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে ফেডারেশন, ইম্পা বৈঠক ডেকেছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজকদের সঙ্গে বসে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় ঠিক করা হবে। যদি এই বৈঠকে সেই জট না কাটে তবে কর্মবিরতি বহাল থাকবে।
















