বলিউডে 'নেপোটিজম' বা স্বজনপোষণ নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন কৃতি শ্যানন। আর এবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর ছবি ‘ককটেল ২’। বক্স অফিসে ছবিটির দারুণ সাফল্যের মাঝেই নিজের ১২ বছরের কঠিন লড়াই এবং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের বৈষম্য নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।


২০১৪ সালে ‘হিরোপান্তি’ ছবি দিয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন কৃতি। তাঁর মতে, একজন বহিরাগত হিসেবে বলিউডের শীর্ষস্থানে পৌঁছনো মোটেও সহজ ছিল না। কোনও ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকায় প্রতি পদে তাঁকে আত্মসংশয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পুরোনো দিনের স্মৃতি হাতড়ে কৃতি বলেন: "আমার জীবনের প্রথম ফটোশুট এবং প্রথম র্যাৃম্প শো ভীষণ খারাপ হয়েছিল। দু’বারই আমি বাড়ি ফিরে প্রচণ্ড কেঁদেছিলাম। মনে হয়েছিল, আমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। পরের দিন আবার নতুন উদ্যমে অডিশন দিতে গিয়েছি।"


কৃতি জানিয়েছেন,'বরেলি কি বরফি', 'লুকা ছুপি'র মতো ছবির পর 'মিমি' ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়াই ছিল তাঁর অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, যা তাঁকে অভিনেত্রী হিসেবে পূর্ণতা দেয়।


সাক্ষাৎকারে কৃতির কাছে নেপোটিজম নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি খুবই স্পষ্টভাবে নিজের মতামত জানান। রণবীর কাপুর বা আলিয়া ভাটের মতো তারকা সন্তানদের প্রশংসা করে কৃতি বলেন, "ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসলেও রণবীর বা আলিয়া অত্যন্ত প্রতিভাবান অভিনেতা। তাঁরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন, তাই তাঁরা আজ যে অবস্থানে আছেন, সেটার যোগ্য।"


কৃতির আসল আপত্তি সেইসব স্টার কিডদের নিয়ে, যাঁরা বারবার ফ্লপ হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর সুযোগ পেয়ে যান। ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিনেোত্রী বলেন: একজন বহিরাগত অভিনেতা কেরিয়ারের শুরুতে এক-দুটি ছবি ফ্লপ করলে ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলে দেয়। আর কোনও সুযোগ দেওয়া হয় না। অন্যদিকে, অনেক স্টার কিড কোনও প্রতিভা বা সাফল্য ছাড়াই টানা ৮-৯ বছর বড় বড় প্রজেক্টে একের পর এক সুযোগ পেতে থাকেন। এই বিষয়টিকেই সম্পূর্ণ ‘অন্যায়’ এবং বৈষম্যমূলক বলে মনে করেন কৃতি। তিনি অনেকবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন যেখানে অন্য কাউকে নেওয়ার জন্য তাঁকে সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।


কৃতির নতুন ছবি ‘ককটেল ২’ সিনেমা হলে বেশ ভাল সাড়া ফেলছে। হোমি আদাজানিয়ার পরিচালনায় এই ছবিতে কৃতি স্যানন ছাড়াও রয়েছেন শাহিদ কাপুর এবং রশ্মিকা মন্দানা। ছবিটির প্রথম সপ্তাহের বক্স অফিস কালেকশন ইতিমধ্যেই ৭০ কোটি টাকার গণ্ডি পার করে ফেলেছে। ছবিতে কৃতির ‘অ্যালি’ চরিত্রটি দর্শক ও সমালোচকদের থেকে দারুণ প্রশংসা পেয়েছে।