প্রেক্ষাগৃহে ছবি মুক্তির আগে আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় একদল ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ বা ‘ফ্যান-সাইট ব্লগার’-দের রমরমাই বেশি দেখা যায়। স্টুডিওর টাকায় বিনেপয়সায় সিনেমা দেখে রিলিজের আগেই তাঁরা টুইটার-ইনস্টাগ্রামে ‘অসাধারণ’, ‘মাইন্ডব্লোয়িং’ লিখে রিভিউয়ের বন্যা বইয়ে দেয়, যাতে সাধারণ মানুষ টিকিট কাটতে বাধ্য হয়। কিন্তু বিশ্বখ্যাত অস্কারজয়ী পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান এবং বিখ্যাত স্টুডিও ইউনিভার্সাল পিকচার্স এবার এই সস্তা প্রচারের মুখে সজোরে ঝাড়ু মারল!
নোলানের আগামী মেগা-বাজেট ছবি ‘দ্য ওডিসি’-র জন্য কোনওরকম ‘ইনফ্লুয়েন্সার স্ক্রিনিং’ বা ‘ওয়ার্ড-অফ-মাউথ স্ক্রিনিং’ না রাখার এক চরম সাহসী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিভার্সাল। সস্তা লাইক-ভিউয়ের চক্করে থাকা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের সরাসরি বাদ দিয়ে, ইউনিভার্সাল এবার ভরসা রাখছে শুধুমাত্র পেশাদার এবং কঠোর চলচ্চিত্র সমালোচকদের ওপর। হলিউডের বাজারে এটাকে নোলানের এক ‘বিরাট দাপট’ এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজকাল দর্শকেরা বেশ চালাক হয়ে গেছেন। স্টুডিওর মার্কেটিং টিম কীভাবে ইনফ্লুয়েন্সারদের টাকা খাইয়ে ভুয়ো হাইপ তৈরি করে, তা এখন সাধারণ মানুষের কাছে জলভাত।
সম্প্রতি ডিজনি ল্যান্ডে ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’ স্টার পেড্রো প্যাসকেল হঠাৎ সাধারণ পর্যটকদের সামনে এসে সারপ্রাইজ দেন— এমন একটি ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, ওই পর্যটকদের দল আসলে সাধারণ মানুষ নয়, টাকার বিনিময়ে আনা ইনফ্লুয়েন্সারদের স্ক্রিপ্টেড নাটক ছিল!
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘সুপারগার্ল’ সিনেমাটি দেখে ইনফ্লুয়েন্সাররা লিখেছিল— “এই গরমের সেরা ব্লকবাস্টার!” কিন্তু সিনেমা রিলিজের পর আসল ফিল্ম ক্রিটিকরা সে ছবির দফারফা করে দেন। ‘রটেন টম্যাটোস’-এ ছবিটির রেটিং দাঁড়ায় মাত্র ৫৯ শতাংশ!
ইউনিভার্সাল স্টুডিওজ নিজেই ওদের আগের ছবি ‘ডিসক্লোজার ডে’ -র জন্য ইনফ্লুয়েন্সারদের ডেকেছিল। সেখানে একজন তো লিখে বসেন, “গত ২০ বছরে স্পিলবার্গের সেরা ছবি এটি!” এই নিয়ে নেটপাড়ায় ওই ইনফ্লুয়েন্সারকে চরম ট্রোল করা হয়।
এই সমস্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এবার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ থেকে ইনফ্লুয়েন্সারদের পুরোপুরি আউট করে দেওয়া হল। আগামী ৬ই জুলাই, ২০২৬-এ লন্ডনে ছবিটির গ্লোবাল প্রিমিয়ার হবে, আর ওঁর ঠিক পরদিনই শুধুমাত্র পেশাদার সমালোচকদের ছবিটি দেখানো হবে। কোনও পেইড ব্লগার বা ইনফ্লুয়েন্সার ধারেকাছে ঘেঁষতে পারবেন না।
গ্রিক পুরাণের মহান বীর ওডিসিউসের ট্রোজান যুদ্ধ শেষে নিজের রাজ্য ইথাকায় ফেরার সেই রক্তক্ষয়ী, অলৌকিক এবং দীর্ঘ ১০ বছরের ভয়ঙ্কর যাত্রার গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে এই রূপোলি পর্দার মহাকাব্য। আগামী ১৭ই জুলাই, ২০২৬-এ বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই ছবি।
নোলানের এই ছবিতে হলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্টার-কাস্টকে একসঙ্গে দেখা যাবে:
ওডিসিউস (প্রধান চরিত্র): ম্যাট ডেমন
টেলিম্যাকাস (ওডিসিউসের ছেলে): টম হল্যান্ড
পেনেলোপি (ওডিসিউসের স্ত্রী): অ্যান হ্যাথাওয়ে
ক্যালিপসো: চার্লিজ থেরন
অ্যান্টিনোয়াস (খলনায়ক/রানিকে পাওয়ার লোভী): রবার্ট প্যাটিনসন
মেনিলাউস (স্পার্টার রাজা): জন বার্নথাল
হলিউড বোদ্ধাদের মতে, ইউনিভার্সালের এই পদক্ষেপ যদি সফল হয়, তবে আগামী দিনে বাকি বড় স্টুডিওগুলিও ইনফ্লুয়েন্সারদের এই ভুয়ো রিভিউয়ের দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হবে। সিনেমা যদি ভালো হয়, তবে ওঁর জন্য কোনো সস্তা টিকটকার বা রিলস মেকারের সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়ে না— এটাই প্রমাণ করতে চলেছেন ক্রিস্টোফার নোলান।















