ট্রেন্ডটা আজকে শুরু হয়নি। গত ৩-৪ বছর ধরে চলছে। কখনও তাতে যোগ হয়েছে, 'অ্যানিম্যাল' -এর মতো ছবি, কখনও 'জওয়ান', 'পাঠান', 'ধুরন্ধর', 'গদর ২', ইত্যাদি। বক্স অফিসেও রীতিমত সাড়া ফেলেছে এই ছবিগুলো। কিন্তু সব কিছুতে মিল কী? নৃশংসতা, মারামারি, ধুন্ধুমার অ্যাকশন। এখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলছে তবে কি ভায়োলেন্স, রক্ত এগুলোই ছবির ভাষা হয়ে উঠছে, সেই কারণেই বক্স অফিস সফিকই পাচ্ছে? এবার গোটা বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরলেন বলিউডের 'পু', ওরফে করিনা কাপুর খান। 

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে করিনা কাপুর জানিয়েছেন উদ্ধত পৌরুষ দেখানোই যেন এখন ট্রেন্ড। তাঁর কথায়, 'এখন, আমি এটিকে একটি ট্রেন্ড বলব। তবে এটা বেশি দিন চলবে না। কিন্তু এই ট্রেন্ডটি দেখার মত। প্রতিটি সিন যেন সংবেদনশীল, শকিং হতে হবে। আর আমার হয় ভায়োলেন্স, শকিং জিনিস লার্জার দ্যান লাইফ করে দেখানো যায়। মানুষ মনে করছে সিনেমা বুঝি এটাকেই বিক্রি করছে। কিন্তু আমার মনে হয় না সিনেমা এটা বিক্রি করছে। কিন্তু সেদিকেই এগিয়ে চলেছে। আমরা ছোট বাজেটের ছবি হারিয়ে ফেলছি, ছোট ছোট মুহূর্তগুলো হারিয়ে ফেলছি। এটা আমায় কিছুটা হলেও ভয় পাওয়ায়।'

করিনা এদিন আরও বলেন, 'এখন যেন সবই থ্রিলার, ক্রাইম, মারামারি, অপরাধ, রক্ত, ইত্যাদি। কোনও মজা নেই, এনার্জি নেই, রং, গান, রোম্যান্স, ভালবাসা কিচ্ছু নেই।' নায়িকা এদিন অকপটে স্বীকার করে নেন তিনি এমন স্ক্রিপ্ট পাচ্ছেন না যা মহিলাদের জন্য লোভনীয়। 

প্রসঙ্গত, করিনা কাপুর খানকে শীঘ্রই 'দায়রা' ছবিতে দেখা যাবে। এই ছবিটির পরিচালনা করেছেন মেঘনা গুলজার। করিনা কাপুর খান ছাড়াও এখানে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে পৃথ্বীরাজ সুকুমারানকে। জটিল সম্পর্ক, অপরাধ, শাস্তি, ন্যায় বিচার, ইত্যাদি বিষয়কে তুলে ধরা হবে। চলতি বছরেই মুক্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু এখনও দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।

কাজের জগতের বাইরে করিনা যেন এক আদর্শ মা। তাঁর এবং তাঁর দুই সন্তানের নানা মূহুর্ত মাঝে মধ্যেই ভাইরাল হয়। তিনি যতই গ্ল্যামার দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকুন না কেন, মা  হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় যেন আর চার পাঁচজন সাধারণ মায়ের মতোই হয়ে যান। করিনা কাপুর খানের ছোট ছেলে জেহ বা জাহাঙ্গীর যে বেজায় দুষ্টু সেটা অভিনেত্রীর প্রোফাইল বা ছবি শিকারিদের ক্যামেরায় বন্দি হওয়া ঝলক দেখে বেশ বোঝা যায়। সম্প্রতি তৈমুর বাবা মায়ের সঙ্গে খেলা দেখতে গিয়েছিল। আর সেখানে জেহ নিজের মতো দুষ্টুমি করছিল। আর তখনই করিনা কাপুর রীতিমত চোখ রাঙিয়ে তাকে শান্ত করেন। দেখে মনে হবে যেন ঠিক পাশের বাড়ির কাকিমা। অভিনেত্রীর এই কাণ্ড সম্প্রতি সমাজমধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।