ছুটির সময় সন্তানদের দিয়ে ঠিকঠাক ছবি তোলানো, এই কাজটা যে কতটা কঠিন, তা জানেন প্রায় সব অভিভাবকই। এবার সেই অভিজ্ঞতাই মজার ভঙ্গিতে ভাগ করে নিলেন বলিওদের তারকা-অভিনেত্রী করিনা কাপুর খান। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট রিশেয়ার করে অভিনেত্রী স্বীকার করেছেন, তিনিও ছুটিতে থাকাকালীন তাঁর দুই ছেলে তৈমুর আলি খান ও জেহাঙ্গির আলি খানকে ছবি তোলার জন্য ‘ট্রেনিং’ দেন।

 

করিনা যে পোস্টটি রিশেয়ার করেন, তাতে লেখা ছিল,“ছুটিতে বাবা-মায়েরা সন্তানদের দিয়ে ছবি তুলতে বাধ্য করেন এইভাবে, ‘এখানে বসো, হাসো, নাক খুঁটবে না, আর ভাল ব্যবহার না করলে আইসক্রিম পাবে না’… আর তারপর ক্যাপশনে লেখেন‘এই কারণেই আমি বাঁচি।’”এই পোস্টের সঙ্গে করিনা লেখেন, “আমি আমি আমি!!!” যার মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁর নিজের সঙ্গেও হুবহু মিলে যায়।

 

 

বর্তমানে স্বামী সইফ আলি খান এবং দুই ছেলে তৈমুর ও জেহ-কে নিয়ে বিলাসবহুল ছুটিতে রয়েছেন করিনা। সেই ভ্যাকেশন থেকেই একের পর এক মজাদার ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন অভিনেত্রী, যা অনুরাগীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এদিকে, নতুন বছরের প্রাক্কালে করিনা এক আবেগঘন পোস্টে জানিয়ে দেন, ২০২৫ সাল তাঁদের পরিবারের জন্য মোটেই সহজ ছিল না। স্বামী সইফ আলি খানের সঙ্গে একটি সুন্দর ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “বছরের শেষ দিনে বসে ভাবছি, আমরা এতটা পথ হেঁটে এখানে পৌঁছেছি।”

 

২০২৫ সালের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে করিনা লেখেন,“এই বছরটা আমাদের, আমাদের সন্তানদের এবং পরিবারের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। কিন্তু আমরা মাথা উঁচু করে এগিয়ে গিয়েছি। হেসেছি, একে অপরকে আঁকড়ে ধরেছি। আমরা অনেক কেঁদেছি, প্রার্থনা করেছি, আর আজ আমরা এখানে। ২০২৫ আমাদের শিখিয়েছে মানুষ ভীতু নয়, ভালোবাসা সব কিছুকে জয় করে, আর সন্তানরা আমাদের ধারণার থেকেও অনেক বেশি সাহসী।”

 

অনুরাগী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে করিনা আরও লেখেন,“যাঁরা সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন, এখনও আছেন আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আর সর্বোপরি ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা।”

 

২০২৬-এ পা রাখার আগে করিনা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা এই নতুন বছর শুরু করছেন কৃতজ্ঞতা, ইতিবাচক মানসিকতা এবং নতুন উদ্দীপনা নিয়ে। তাঁর কথায়,“২০২৬-এ ঢুকছি নতুন আগুন নিয়ে, অসীম কৃতজ্ঞতা আর আমাদের সবচেয়ে প্রিয় কাজ, সিনেমার প্রতি অটুট ভালবাসা নিয়ে। শুভ নববর্ষ!”

 

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিজের বাড়িতেই এক দুষ্কৃতীর হামলার শিকার হয়েছিলেন সইফ আলি খান। ওই ঘটনায় একাধিক ছুরির আঘাত লেগেছিল তাঁর শরীরে, মেরুদণ্ডেও গুরুতর চোট পেয়েছিলেন তিনি।  একাধিক অস্ত্রোপচারের পর প্রায় ১০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন অভিনেতা।