চার বছর পর আবার রহস্যের জট খুলতে বড়পর্দায় ফিরলেন কাকাবাবু। ক্রাচে ভর দিয়ে, কিন্তু আত্মবিশ্বাসে অটল, সঙ্গী সন্তুকে নিয়ে গুপ্তধনের সন্ধানে তাঁর নতুন অভিযান ‘বিজয়নগরের হীরে’। সরস্বতী পুজো ও নেতাজি জয়ন্তীর দিনে, ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। কাকাবাবুর চরিত্রে ফের একবার দর্শকের সামনে হাজির প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গে সন্তু হিসেবে আরিয়ান ভৌমিক।

এই ছবির গল্পে রয়েছে কিংবদন্তি আর বাস্তবের দোলাচল, ‘বিজয়নগরের হীরে’ আদৌ মিথ, না কি ইতিহাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্যি? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কাকাবাবুর এবারের যাত্রা দক্ষিণ ভারতের ঐতিহাসিক স্থান হাম্পি। শুধু রহস্যভেদ নয়, গল্পে জুড়ে রয়েছে ইতিহাস, গুপ্তধন আর টানটান অ্যাকশনের ছোঁয়া।

ছবির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, রাজনন্দিনী পাল, সত্যম ভট্টাচার্য, অনুজয় চট্টোপাধ্যায়, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, পূষন দাশগুপ্ত-সহ আরও অনেকে। পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন চন্দ্রাশিস রায়, প্রযোজনায় এসভিএফ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি ‘কাকাবাবু’ ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ ছবি। এর আগে ‘ইয়েতি অভিযান’, ‘কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ ও ‘মিশর রহস্য’-তিনটি ছবিই পরিচালনা করেছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। চতুর্থ ছবিতে বদলেছে পরিচালকের হাত।

ছবি দেখে নিজের উচ্ছ্বাস গোপন রাখতে পারেননি জনপ্রিয় পরিচালক-অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে তিনি শুধু ছবির প্রশংসাই করেননি, বরং অকপটে স্বীকার করেছেন-এই ছবি তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে সত্যজিৎ রায়কে।

ফেসবুকে কৌশিক লেখেন,“পরে ভাববেন, আগে ছোটদের ট্যাঁকে গুঁজে কাছের সিনেমাহলে চট করে চলে যান। শীতের মেজাজে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু আর হাম্পির নির্মল রহস্য, এর চেয়ে ভালো কম্বিনেশন হয় না।”

তিনি আরও লেখেন,“ কাউকে জিজ্ঞেস করার দরকার নেই,” হ্যাঁ রে, বুবাই দেখতে পারে ছবিটা? ওসব কিছু নেই তো?” তাদের বলি, যা আছে এই ছবিতে, আপনাদের বুবাইরা চোখ বন্ধ করে কাকাবাবুর মাধ্যমে যা যা শিখবে, তা ইতিহাস বইতে খুঁজেও পাবেন না। হাম্পি বেড়াতে গিয়েছিলাম পরিচালক ও চিত্রগ্রাহকের সৌজন্যে। 

কৌশিক গাঙ্গুলির মতে, যেমন করে সত্যজিৎ রায় ফেলুদার হাত ধরে বাঙালিকে বেনারস, জয়সলমীর ঘুরিয়ে এনেছিলেন, ঠিক তেমনই হাম্পিকে বাঙালির নতুন রহস্যগন্তব্য করে তুলতে পারেন চন্দ্রাশিস রায়। তাঁর কথায়, “হাম্পিতেও বাঙালির গল্প জমে উঠবে। এই রহস্যনগরী ভবিষ্যতে বাঙালির নতুন ট্রাভেল ডেস্টিনেশন হয়ে উঠতে পারে।”

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় নিয়েও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কৌশিক। তাঁর মতে, “অসহায় ডান পা নিয়ে যে ওজন কাঁধে টেনেছেন প্রসেনজিৎ, তা প্রমাণ করে ভরসা থাকলে ক্রাচও অস্ত্র হয়ে ওঠে।” সঙ্গীতে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত-র অবদানকেও আলাদা করে তুলে ধরেছেন তিনি।

 

 

মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিটে হাম্পি দর্শন আর চোখের পলকে কলকাতায় ফিরে আসার অভিজ্ঞতা- এই সুযোগ হাতছাড়া না করার পরামর্শ দিয়েছেন কৌশিক গাঙ্গুলি। পোস্টের শেষে তাঁর বার্তা, “ধন্যবাদ এসভিএফ, ছোটদের মতো করে ছোটদের গল্প বলার জন্য। যাত্রা শুভ হোক।”

উল্লেখ্য, সরস্বতী পুজোয় বক্স অফিসে ‘বিজয়নগরের হীরে’-র মুখোমুখি লড়াই চলছে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘হোক কলরব’ এবং উইন্ডোজ প্রোডাকশন হাউস প্রযোজিত, অরিত্র মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর সঙ্গে।

সব মিলিয়ে, চার বছর পর কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন শুধু আরেকটা ছবি নয়, এ এক প্রজন্মের কৌতূহল, ইতিহাস আর রহস্যের সঙ্গে নতুন করে চোখে চোখ রাখার অভিযান।