বেশ অনেকদিন পর মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভ এসেছিলেন জীতু কামাল। শুটিং শেষে বাড়িতে ফিরেই লাইভ শুরু করেছিলেন অভিনেতা। লাইভের প্রথমেই সদ্যপ্রয়াত অভিনেতা-লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানান তিনি।  জানান, রাহুলের আচমকা মৃত্যুতে তিনি শোকাহত। এবং তার সঙ্গে এও জানান, প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকলেও, ঘনিষ্ঠতা ছিল না। সহকর্মী হিসেবে ভাল সম্পর্ক ছিল, এটুকুই। কারণ জনপ্রিয় কোনও ব্যক্তিত্ব মারা গেলেই তাঁর সঙ্গে যে সুসম্পর্ক থাকবেই-এমন দাবি করাতে তিনি নারাজ। তবে হ্যাঁ, রাহুলের প্রতিভা নিয়ে কথা বলার  যে তাঁর কোনও যোগ্যতা নেই, সেকথাও খোলা মনে স্বীকার জীতু। সঙ্গে সমাজমাধ্যমে রাহুলকে নিয়ে চলা নানান পোস্ট, 'ভাষণ', সন্দেহ, মৃত্যুর কারণ নিয়ে আলোচনাকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি -এসব প্রকার চলছে। আরও কিছুদিন যাবে। তারপরেই...আপনারা নিজেরাও জানেন সেটা। আমরা এই সমাজব্যবস্থার মধ্যেই বাস করি যেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামী,  সমাজ সংস্কারককেই ঠিকমতো মনে রাখে না মানুষ। সেখানে একজন খেটে খাওয়া মানুষটাকে, অভিনেতা-লেখককে কতদিন মনে রাখবে মানুষ তাই নিয়ে আমারই সন্দেহ আছে। কতদিন? এক মাস, দু'মাস. এক বছর....তারপর অফ হয়ে যাবে সব...যাকগে।"  জীতু আরও জানান, রাহুলের সঙ্গে তাঁর মাঝেমধ্যেই কথা-আড্ডা হত। মূলত ছবি নিয়ে। গত শনিবারও কথা হয়েছে হোয়াটস অ্যাপ কল-এ। 

 

লাইভে জীতু আরও জানান, তাঁরও প্রোডাকশনের গাফিলতিতে বড়সড় বিপদ হতে পারত,মৃত্যুও ঘটতে পারত!  অভিনেতার কথায়, ‘শুটিং চলাকালীন সেদিন আমারও মৃত্যু ঘটতে পারত’। শুটিং ফ্লোরে ইউনিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন - " আমি বারবার তাঁদের বলছিলাম। খেয়াল করছিল না, গুরুত্ব দিচ্ছিল না। অসুস্থ লাগছিল.... আস্তে আস্তে কোল্যাপ্স করছিলাম...এমনও শুনতে হয়েছে আমার হাসপাতালের খরচ নাকি প্রযোজকরা দিয়েছেন!  জানিয়ে রাখি বিন্দুমাত্র খরচ দেননি।  

আমি জীবিত আছি বলেই হয়তো আমার কথা আজ কম গুরুত্ব পাবে। কিন্তু যদি আমি আজ জীবিত না থাকতাম কিংবা আমার কোনও অঙ্গ পক্ষাগাতগ্রস্থ হয়ে যেত, তখন হয়তো আমার কতগুলো গুরুত্ব পেত! আমি বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার সহকর্মী তথা পরিচিত অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু নিজের উদ্যোগে এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। অথচ আমার সেই ছবির প্রযোজকদের চিন্তা ছিল কীভাবে পরের দিনের শুটিংটা করবে। সেই শিডিউলটা কীভাবে শেষ করবে। তাঁরা নানান জায়গায় গিয়ে মিষ্টি মিষ্টি কথার মাশয়মে একপ্রকার নালিশ করে। ইন্ডাস্ট্রির উঁচু মাথাদের দিয়ে আমাকে বলানো হয় ছবির ডেট দিতে। আমি দিয়েওছিলাম। এবং তাঁরা কথা দিয়েছিলেন আর আমাকে ধুলো ধুঁয়োর মধ্যে কাজ করব না। কিন্তু আজকেও আমাকে ওই অবস্থার মধ্যেই কাজ করতে হয়েছে! জানিয়ে রাখলাম।"

 

এরপরই কারও নাম না করে জীতু বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন - রাহুলের দেহ দেখতে যাওয়ার পর যে অভিনেত্রী অনুযোগ করেছিলেন ধারাবাহিকের নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ নিয়ে তিনি আমার হয়ে সেদিন কোনও প্রশ্ন তুললেন না কেন? আমার কোনও অঙ্গ পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়নি বলেই কি? আমি সুস্থ আছি বলেই কি? এই প্রশ্ন কিন্তু বারবার তুলব।"
জীতু কামালের এই লাইভ শ্যুটিং ফ্লোরে শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং প্রযোজক-শিল্পী সম্পর্কের এক কঙ্কালসার চেহারা সামনে এনে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই নির্ভীক অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনুরাগীদের বড় একটি অংশ।