সেলিনা জেটলি এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামী পিটার হ্যাগের সম্পর্কের জটিলতা যেন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তাঁরা বহুদিন আলাদা থাকেন, ইতিমধ্যেই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে তাঁদের। প্রাক্তন স্বামীর নামে একাধিক গুরুতর অভিযোগও এনেছেন সেলিনা। আর তাঁদের সেই আইনি লড়াই যেন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এবার জানা গেল, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিলেন তাঁর প্রাক্তন স্বামী। 

সেলিনা জেটলি পিটার হ্যাগের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন অতীতে। তার ভিত্তিতেই, অপমানজনক অভিযোগ করার জন্য সেলিনাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন পিটার। মানহানি করার দরুন তিনি সেলিনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। কেবল আইনি নোটিশ পাঠিয়েই ক্ষান্ত হননি পিটার। তিনি অভিনেত্রীকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেছেন। 

এই বিষয়টি মুম্বইয়ের একটি ল ফার্ম সেমওয়াল অ্যান্ড কোম্পানির তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে সেলিনা জেটলিকে দু'টি আলাদা নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশ দু'টি পিটার হ্যাগ এবং তাঁর বাবা উলফগ্যাং জে হ্যাগের তরফে পাঠানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, অভিনেত্রী সম্প্রতি তাঁর সন্তানের কবরের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানেই তিনি তাঁর প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, 'অস্ট্রিয়ান বিচারকের সামনে অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও, আমার সন্তানদের কোনও এক অজানা জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের আর ফিরিয়ে আনা হয়নি। আমি কেবল আমার ছেলে শামসেরের সঙ্গেই দেখা করতে পেরেছি। আসলে ও মারা গিয়েছে। এটা একজন মায়ের হৃদয়বিদারক গল্প, যে তার সন্তানদের জন্মের পর থেকে তাদের জন্য সবকিছু করেছে।'

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মুম্বইয়ের আন্ধেরির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস আদালতে পিটার হাগের বিরুদ্ধে মামলা করেন সেলিনা। সেই মামলায় তিনি ৫০ কোটি টাকা ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে অভিনেত্রী দাবি করেছেন, বর্তমানে তাঁকে তাঁর তিন সন্তানের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং শিশুদের বিরুদ্ধে তাঁর বিরুদ্ধেই ‘ব্রেনওয়াশ’ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ভারতে ফিরে নিজেরই বাড়িতে ঢোকার অধিকার পেতেও তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। ওই সম্পত্তিটি তিনি ২০০৪ সালে কিনেছিলেন, বিয়ের বহু আগে। অথচ সেই বাড়ির উপরও এখন স্বামী দাবি করছেন বলে অভিযোগ। এই আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে তাঁকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতেও হয়েছে।
সেলিনা আরও জানান, তাঁর ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে তাঁকে প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, 'একটি উপহারের অজুহাতে আমাকে স্থানীয় পোস্ট অফিসে নিয়ে গিয়ে ডিভোর্স নোটিশ দেওয়া হয়।' এরপর তিনি শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন। বরং তাঁর বিয়ের আগের সম্পত্তি নিয়ে দাবি করা হয় এবং এমন সব শর্ত চাপানো হয়, যা তাঁর স্বাধীনতা ও সম্মান কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে তিনি দাবি করেছিলেন।