শনিবার বিকেলে টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিন 'জাস্টিস ফর রাহুল' স্লোগানে রাজপথে নেমেছিলেন টলিউডের শিল্পী ও কলাকুশলীরা।রাহুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন যে টেকনিশিয়ানরা, তাঁরাও এদিনের প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল প্ল্যাকার্ড, তাতে লেখা 'জাস্টিস ফর রাহুল'। টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে রাধা স্টুডিও পর্যন্ত মিছিলে হাঁটা হয়েছে। এদিকে, প্রতিবাদ মিছিলে নজর কেড়েছিলেন অভিনেতা জিতু কামাল। নিজের সাদাকালো ছবিতে মালা পরিয়ে মিছিলে এনেছিলেন তিনি।
রাহুলের ছবির পাশে নিজের সাদাকালো ছবিতে রজনীগন্ধার মালা পরিয়ে রেখেছিলেন। অভিনেতার দাবি, এই একই অবস্থা তাঁর সঙ্গেও হতে পারত। আর্টিস্ট ফোরাম মৃত অভিনেতার জন্য প্রতিবাদ করছে অথচ, জীবিত অভিনেতারা মৃত্যুর মুখে পড়লে তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না। জিতুকে এদিন দেখা যায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওর গাছতলায় বসে এই অভিনব প্রতিবাদ করতে।
তবে জিতুর এই কাণ্ডকে একেবারেই ভাল চোখে দেখেননি অভিনেতা অভ্রজিৎ চক্রবর্তী। তাঁকে দর্শক দেখছেন জি বাংলার ধারাবাহিক 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এ 'কিঙ্কর'-এর চরিত্রে। অভ্রজিৎ জিতুর নাম না নিয়েই সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন। লেখেন, 'স্থান কাল পাত্র
এটা, বেসিক প্রতিবাদ অবশ্যই কাম্য। কিন্তু মুহূর্ত তোমার নয়। শোক এ যারা আছেন তারা মিথ্যে নয়
তোমার না পাওয়া অবশ্যই বলার অবকাশ আছে, এই মুহূর্তটা নয়। ভালো থাকো শান্ত হও। মা বাবা হও তারপর বুঝবে। গলায় মালা দেওয়া টা কতটা যুক্তি যুক্ত। তোমার উন্নতি হোক।' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)
অভ্রজিৎ-এর এই পোস্টের জোরালো প্রতিবাদ করেছেন জিতু কামাল। তিনি অভ্রজিৎকে খোঁচা দিয়ে লেখেন, 'আচ্ছা তুমি কথা দাও তুমি মদ খেয়ে, নেশা করে কখনো ফ্লোরে আসবে না।
ফ্লোরে টলোমলো পায়ে পড়ে যাবে না। স্থান-কাল পাত্র বুঝে মদ খাবে, কথা দাও। নেশা কেটে যাওয়ার পর,একাকী সরি বলবে না। বল,বলবে না “মন থেকে তোকে ভালোবেসে লিখি”। আচ্ছা আমি যখন হসপিটালে ছিলাম তখন তোমার মনে হয়েছে,আমার মায়ের চোখে মুখে কতটা আশঙ্কা ছিল, কতটা কষ্ট ছিল যে,আজকে আমার ছেলেটার শ্বাসনালীতে এত বড় একটা প্রবলেম হলো। সে আবার চলে গেল সেই শুটিংয়ে যেখানে আবার শ্বাসনালীতে প্রবলেম হতে পারে,যেখানে তোমাদের সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলো,যে তোমাকে এই কথাগুলো বলতে বলছে।' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)
জিতু আরও লেখেন, 'ট্র্যাকশুট আর টি-শার্ট পরে রবীন্দ্রনাথের বক্তব্য শুনতে যাওয়া একটা বিপ্লবের নাম, বলতো কে করেছিল? আশা করি জানো না।
বাংলার ইতিহাস পড়ো,ভারতবর্ষের ইতিহাস পড়ো।শুধুমাত্র মদ খাওয়ার স্বাধীনতা নিয়ে ঘুরে বেড়িও না। “শিকল সোনার হোক বা লোহার দুটোই দাসত্বের” সংগ্রাম বা বিপ্লবের কোন সঠিক স্থান-কাল-পাত্র হয় না।' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)
সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্দার আর্য-কিঙ্করের এই দ্বন্দ্ব দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই। কারণ, টেলিভিশনের পর্দায় তাঁরা দারুণ বন্ধু। কিন্তু বাস্তবে এমন অসম দ্বন্দ্ব ভাবিয়ে তুলেছে দর্শকের।
















