রাহুল অরুনোদয় ব্যানার্জির মৃত্যুকে ঘিরে যখন টলিউড উত্তাল, সেই সময় জিতু কামাল প্রতীকী প্রতিবাদ করেছিলেন৷ জিতুর অভিযোগ ছিল, রাহুলের মতো অবস্থা তাঁরও হতে পারত৷ ক্ষোভ জমেছিল জিতুর৷ রাহুলের ছবির পাশের নিজের ছবিতে মালা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন জিতু৷

বিতর্কের সূত্রপাত 'এরাও মানুষ' ছবিকে কেন্দ্র করে৷ 'এরাও মানুষ' ছবির প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আর্টিস্ট ফোরামে অভিযোগও জানিয়েছিলেন জিতু৷ কিন্তু অবশেষে সেই বিবাদ মিটল৷ জিতু নিজেই জানিয়েছেন সে কথা৷ যদিও জিতু নিজেই সমস্যার সমাধান করেছেন বলে দাবি৷ সেইসঙ্গে নিজেকে ছোট শিল্পী বলে অভিহিত করে আর্টিস্ট ফোরামকে পরোক্ষে কটাক্ষও করেছেন জিতু৷ 

জিতু লিখেছেন, "যে বাকবিতন্ডা হয়েছিল সাই-ভিগ্নেস প্রোডাকশন এর সাথে(এরাও মানুষ ছবি),যার জন্য আমি আর্টিস্ট ফোরামে কমপ্লেইন করেছিলাম(১৬/৩/২০২৬)।
আর্টিস্ট ফোরামের প্রচুর দায়িত্ব,
সিনিয়রদের প্রচুর কাজ,
তার মধ্যে আমার ক্ষুদ্রতম কমপ্লেনটি দেখার তাদের সুযোগ হয়নি, তাই জন্য নিজের দায়িত্বে,
***ছবিটির স্বার্থে আমি গন্ডগোলটি মিটিয়ে নিলাম।
১৮ বছরের ফোরামের সিনিয়র মেম্বার হয়ে নিজেকেই তো নিজের দায়িত্ব নিতে হবে, বলুন।
ভবিষ্যতে কোন আর্টিস্ট যদি গন্ডগোলে পড়েন আপনারা নিজেরা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। 
ফোরামের প্রচুর দায়িত্ব থাকে।
ছোট ছোট শিল্পীর পাশে খুব একটা দাঁড়ানোর সময় পেয়ে ওঠেন না।
তাদের প্রতি সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকল।" 

[ বানান ও লেখা অপরিবর্তিত ] 

মার্চের মাঝামাঝি সময় জিতু কামালের বিরুদ্ধে 'এরাও মানুষ' ছবির পরিচালক, প্রযোজক অভিযোগ তোলেন, অভিনেতা নাকি হঠাৎ করেই ছবির শুটিং করা ছেড়ে দিয়েছেন, কাজে অসহযোগিতা করেছেন। যদিও জিতু আজকাল ডট ইন-কে জানিয়েছিলেন, তাঁকে অপমান করা হয়েছে, গালিগালাজ করা হয়েছে। 

১৭ মার্চ সকালে খবর রটে 'এরাও মানুষ...' ছবির সেট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন জিতু কামাল। শুধু তাই নয়, জিতু নাকি পরিচালককে পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন! 

জিতু কামাল আজকাল ডট ইন-কে বলেছিলেন, "ঝামেলা আমার পিছন ছাড়বে না। প্রথম দিন থেকেই ডেটসের সমস্যা ছিল। ডেটস দেয়, তার ঠিক দুদিন আগে ডেট চেঞ্জ করে দেয়। তাও একটা দুটো দিন নয়, ৫-৬ টা দিন। আমি তো এসভিএফের কাছেও তো অ্যাকাউন্টেবল। ওদের থেকে টাকা নিই। দিনের পর দিন আমি ঘরে বসে রয়েছি, কাজে যেতে পারছি না।" 

অভিনেতা আরও বলেছিলেন, "১৬ তারিখ মানে শুটিংয়ের শেষ দিন ওদের কেন মনে হল যে আমি মেকআপ করছি না, সহযোগিতা করছি না। এরা নতুন। শুটিং শেষ হওয়ার পর বাদ দেওয়া, শিল্পীর অনুমতি ছাড়া ডাবিং নিজের মতো করে নেওয়া যায় না, এগুলো জানে না।" তাঁর আরও সংযোজন, "আমি ওখানে যেহেতু কথা দিয়ে ফেলেছি, আমাকে ওখানে যেতে হয়েছে। কোনওদিন ঠিক সময় গাড়ি দেয়নি। আমি পৌঁছব কী করে। পিকআপ টাইম দিচ্ছ। কাল আমায় কল টাইম দিয়েছে সাড়ে ৮ টায় আমি ঢুকেছি ৯ টায়। পৌঁছব কী করে?" 

জিতু আরও বলেছিলেন, "আমায় সবার সামনে বলেছে এটা কি হারামের টাকা? মেরে তোমায় ঠান্ডা করে দেব। তোমার গায়ে কেউ হাত দেয়নি বলে তুমি এসব করে বেড়াচ্ছ। আমি ভেবেছি ইয়ার্কি করছে। আমিও বলেছি মারো মারো। দড়াম করে দরজাটা আমার হাতের সামনে বন্ধ করে দেন। সাই প্রকাশ আমায় 'বেরিয়ে যা' বলেন, তখন আমি বেরিয়ে আসি। কারণ ওখানে শুটিংয়ের পরিবেশ ছিল না। শেষ দিনে এটা ঘটাল। হয়তো আমি ওদের ফাঁদে পা দিলাম। না বেরিয়ে যদি আমি তর্ক করতাম। ফোরামকে জানিয়েই বেরিয়েছি। কিন্তু এঁরা পাওয়ার গেম খেলার চেষ্টা করে। নেতা মন্ত্রী, এসব করার চেষ্টা করে। আইনি জায়গায় যাবে, আমিও নিশ্চয় আইনি ভাবে লড়ব। কিন্তু গায়ে হাত তোলা, হুমকি দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে আছে, যে আমি বলছি আমায় সরি বলতে হবে সেটাও আছে। অমিত তালুকদার নিজে বলেছেন আমি ওর হয়ে সরি বলছি। ওরা ভাবছে শুটিং হয়ে গেলে গালাগাল দিয়ে বের করে দেব, ছবি আমাদের। ছবি ওদেরই, কিন্তু শিল্পীর অনুমতি ছাড়া তাঁর ডাবিং কেউ করতে পারেন না। এই নিয়ম ওরা জানেন না।" 

কী অভিযোগ ছিল জিতুর বিরুদ্ধে? অভিনেতা নাকি প্রথম দিন থেকেই স্পট বয় থেকে ফ্লোরের অনেকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। ১০ ঘণ্টার বেশি শুটিং করতে পারবেন না বলেছেন। আর যদি অতিরিক্ত সময় শুটিং করেন এক ঘণ্টার জন্য নাকি দেড় লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেবেন। শুটিং শুরুর কথা বললে অভিনেতা পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন। তারপরই নাকি তিনি বেরিয়ে যান। এরপর নির্মাতাদের তরফে তাঁর সঙ্গে ছবির চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। 

জিতুর কারণেই ছবির শুটিং অক্টোবরের বদলে মার্চে শেষ হল। ইতিমধ্যেই তাঁকে ১২ লাখের বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে। ডাবিংয়ের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাকি। যদিও চুক্তি বাতিলের পর তাঁকে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছিল৷