২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলায় বড়সড় আইনি পদক্ষেপ নিলেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। সুপ্রিম কোর্ট থেকে নিজের আবেদন প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি। মামলাটি মূল অভিযুক্ত অভিনেত্রীর চর্চিত প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখর।

সম্প্রতি দিল্লির একটি আদালত জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে এই মামলায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তিনি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ অভিনেত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁকে মামলাটি তুলে নেওয়ার অনুমতি দেয়। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, জ্যাকলিনকে ট্রায়াল কোর্ট বা নিম্ন আদালতে আইনি প্রতিকারের জন্য আবেদন করার স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে নাম জড়িয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জ্যাকলিন। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অভিযোগ করেছে, সুকেশের থেকে অভিনেত্রী দামী উপহার গ্রহণ করেছিলেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতেন। এমনকী, ইডির চার্জশিটে জ্যাকলিনকে অভিযুক্ত হিসেবে নামও যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিনেত্রীর আইনি দল বরাবরই দাবি করে এসেছে যে, তিনি সুকেশের প্রতারণার বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

এদিন সুপ্রিম কোর্টে জ্যাকলিনের আইনজীবী জানান, তিনি এই বিশেষ আবেদনটি তুলে নিয়ে আইনি নিয়ম মেনে যথাযথ জায়গায় প্রতিকারের চেষ্টা করবেন। উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানি নিয়ে এর আগেও কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। গত ১১ জুন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে নতুন বেঞ্চে শুনানি শুরু হলেও, এখন অভিনেত্রী নিজেই আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আপাতত সুপ্রিম কোর্টের পর্ব এখানেই শেষ হল।

আগামী দিনে ট্রায়াল কোর্টে জ্যাকলিন ঠিক কী পদক্ষেপ করেন, তা নিয়েই এখন দানা বাঁধছে কৌতুহল। একদিকে যখন তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের লড়াই চালাচ্ছেন, অন্যদিকে ইডি-র কড়া তদন্তের মুখে দাঁড়িয়ে আইনি জটিলতা কাটানো তাঁর জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে অভিনেত্রীর অনুরাগীরা।