৯০ দশকে বহু অভিনেত্রীর লিপে শোনা গিয়েছে তাঁর গান। উপহার দিয়েছেন একের পর এক হিট গান। তবে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি লাইমলাইট থেকে। দূরে আছেন। সম্প্রতি তাঁকে পদ্ম পুরস্কারের মঞ্চে দেখা যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পদ্মভূষণ গ্রহণের পরই তাঁকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। সেই ছবি, ভিডিও বর্তমানে ভাইরাল। গায়িকার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁর অনুরাগীরা। কেমন আছেন তিনি? নিজেই জানালেন সেই খবর।
এদিন ইনস্টাগ্রামের পাতায় একটি পোস্ট করে নিজের স্বাস্থ্যের আপডেট দেন অলকা ইয়াগনিক। তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার জন্য। তারপরই জানান তিনি কেন হুইলচেয়ারে বসেছিলেন। গায়িকা এদিন তাঁর পোস্টে লেখেন, 'ধন্যবাদ আপনাদের ভালবাসা, কনসার্ন এবং অসংখ্য শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর জন্য। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও নির অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আমি সকলকে জানাতে চাই আমি এখন অনেক ভাল আছি। উন্নতি সুস্থ হয়ে উঠছি। কিন্তু সেদিনের এই স্মরণীয় পদ্ম পুরস্কারের অনুষ্ঠানের পর আমার মাথা ঘুরছিল, ক্লান্ত লাগছিল। তাই বেরোনোর সময় হুইলচেয়ারের জন্য অনুরোধ করি।'
অলকা এদিন তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, 'দয়া করে কেউ চিন্তা করবেন না। আমি এখন অনেকটাই ঠিক আছি। সকলের কাছে কৃতজ্ঞ এত প্রার্থনা এবং সমর্থনের জন্য। আমাকে এটা শক্তি জুগিয়েছে। আমি আমাদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই আমায় এই সম্মান দেওয়ার জন্য।'
কিন্তু কী হয়েছে অলকা ইয়াগনিকের? ২০২৪ সালে গায়িকা প্রথমবার প্রকাশ করেছিলেন যে, একটি বিমান থেকে নামার পর তিনি হঠাৎ করেই আর কিছু শুনতে পাচ্ছিলেন না। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, তিনি এক বিরল স্নায়ুজনিত বধিরতা বা 'সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস' (এসএনএইচএল)-এর শিকার হয়েছেন।
কী এই 'SNHL'? চিকিৎসকদের মতে, সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস হল কানের এমন এক জটিল রোগ, যা মূলত ভেতরের কান (কক্লিয়া) কিংবা কান থেকে মস্তিষ্কে শব্দ সংকেত পৌঁছনোর প্রধান স্নায়ুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেখা দেয়। অলকা ইয়াগনিকের ক্ষেত্রে একটি আচমকা তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ বা 'ভাইরাল অ্যাটাক'-এর কারণে এই শ্রবণ স্নায়ুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, হঠাৎ করে শোনার ক্ষমতা সম্পূর্ণ বা আংশিক হারিয়ে ফেলা, কানে সবসময় এক ধরণের ভোঁ-ভোঁ শব্দ হওয়া এবং উচ্চস্বরের শব্দ বা কথাবার্তা অস্পষ্ট লাগা। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত চড়া আওয়াজে হেডফোন ব্যবহার, মাথায় আঘাত বা ভাইরাল ইনফেকশন থেকে এই সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করলে এই ক্ষতি চিরস্থায়ী রূপ নিতে পারে।















