রাহুল অরুনোদয় ব্যানার্জির মৃত্যুতে তদন্তের দাবি উঠছে৷ সহশিল্পীদের বয়ান আর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে কিছু অমিল ধরা পড়েছে৷ এই প্রসঙ্গে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "তদন্ত তো হচ্ছে৷ আমি তো সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি আগের দিন গিয়েছিলাম। ফলে ঘটনার বিবরণ আমি শুনেছি টেকনিশিয়ান আর্টিস্টদের সঙ্গে কথা বলে৷ এতগুলো লোক কথা বললে কিছু ফাঁক থাকতে পারে৷ তার দায় আমি নিতে পারব না।"
লীনা গাঙ্গুলি জানান, "শুটিং প্যাক আপ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের যিনি প্রোডাকশন ম্যানেজার তিনি আর্টিস্টদের ছাড়তেও গিয়েছিলেন৷ অম্বরীশ রাজন্যা সহ অনেকেই ছিল। ওরা গাড়িতে উঠে গিয়েছিল৷ রাহুল অত্যন্ত পারফেকশনিস্ট। খুব মন দিয়ে কাজ করত৷ ওর মনে হয়েছিল আরেকটা ড্রোন শট দেব৷ প্যাক আপ হয়ে যাওয়ার পরেও ড্রোন শট নেওয়ার কথা বলে রাহুল। পরিচালক জানিয়েছিল, স্ক্রিপ্টে এই ড্রোন শট ছিল না। হাঁটুজলেই শুট হচ্ছিল৷ সেই সময় একটা ঢেউ আসে৷ যতটুকু শুনেছি শ্বেতা পড়ে যায়৷ তখন শ্বেতা আর শুট করতে রাজি হয় না। চলে আসে ওকে ইউনিটের লোকজন নিয়ে৷ তার পর আরও একটা ঢেউ আসে৷ রাহুল পা স্লিপ করে পড়ে যায়৷ এই জায়গায় পা হড়কে পড়ে গেলে যা হয় সেটাই হয়েছে৷ ওখানে আমাদের নৌকা ছিল৷ তারপর রাহুলকে উদ্ধার করা হয়৷"
লীনা গাঙ্গুলি জানান, "যতটুকু শুনেছি তাতে পুরো ঘটনা ৫ মিনিটের মধ্যে হয়েছে। পাড়ে ওঠার পরেও ওর জ্ঞান ছিল। এটা আমাকে শ্বেতা এবং পরিচালক বা প্রোডাকশন ম্যানেজারও বলেছেন। এরপর রাহুলের শরীর থেকে জল বার করা হয়৷ এবং গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল৷ তখনও দুবার তাকিয়েছে রাহুল এমনটাই জানিয়েছেন প্রোডাকশন ম্যানেজার। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তখন চিকিৎসকেরা রাহুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷"
লীনা গাঙ্গুলির দাবি, "শুটিংয়ে মেকআপ ভ্যানই থাকে৷ কোনও শুটিংয়ে কি অ্যাম্বুল্যান্স থাকে? আমি ২০ বছর কাজ করছি৷ ধারাবাহিকের শুটিংয়ে কোনদিন অ্যাম্বুল্যান্স দেখিনি৷ বোট ছিল। আমি ওই বোটে করেই ওদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম৷ বোটের মাঝি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন৷ সমুদ্রে রাহুল ছাড়া আর দুজন ছিলেন। ওদের হাঁটুজলের বেশি যাওয়ার কথা ছিল না। ওরা তাই করেছে৷"
মধুচন্দ্রিমার দৃশ্য ছিল তাই রাহুল আর শ্বেতাকে জলে নামতে হয়েছিল বলেও জানান লীনা গাঙ্গুলি৷ "গল্প অনুযায়ী ছেলেটি ভীতু স্বভাবের৷ তাই মেয়েটি তাকে টুকি দিয়ে চলে যাবে শ্বশুরবাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করতে৷ গল্পে এটুকুই ছিল। এমনকি পাড় ধরে যাবার কথাও নির্দিষ্ট করে বলা ছিল৷ অনেকসময় তো শিল্পীর মনে হয় আরেকটু বেটার কিছু করার, সকলের বাড়ি ফেরার তাড়া তাই ওকে বারণও করেছিল, আমি শুনেছি শ্বেতা এবং অন্য টেকনিশিয়ানদের থেকে।" জানান লীনা গাঙ্গুলি৷
লীনা গাঙ্গুলির দাবি, "ওড়িশার পুলিশকে জানানো হয়েছে৷ যেখানে আমরা শুট করি সেখানকার স্থানীয় একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ যার হোটেল আছে৷ ছেলেটির নাম সৌরভ, সে আগে আমার সঙ্গে কাজ করেছে। শুধু আমার না, আরও অনেকের কাজ করেছে৷ সেই দায়িত্বে ছিল। ও জানিয়েছে থানার অনুমতি আছে৷ প্রোডাকশন ম্যানেজার নিশ্চয়ই সেই অনুমতিপত্র না দেখে বলছে না। এখন আমার কাছে কাগজ নেই৷ কাগজ পেলেই দিয়ে দিতে পারব৷"
রাহুল অরুণোদয়ের শেষযাত্রায় ইউনিটের কাউকে সেভাবে দেখা যায়নি কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে লীনা জানান, "পুলিশি তদন্তের জন্য ওদের থাকতে হয়েছে৷ ওরা ফিরছে এখনও৷ যাঁরা ফিরতে পেরেছেন তাঁরা সকলেই ছিল৷ আমার অফিসের লোকজন ছিলেন৷ শৈবালদা গতকাল গিয়েছিলেন আজও গিয়েছেন। "
সত্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ শুনে লীনা গাঙ্গুলি প্রশ্ন তোলেন, "কেন? রাহুলের সঙ্গে কি আমাদের শত্রুতা ছিল? একমাত্র রাহুল জানত আমাদের সঙ্গে ওর কী সম্পর্ক! তাঁর কিছু চ্যাট আছে আমার কাছে৷ দুটো এলাকার পুলিশ তদন্ত করছে৷ ও আমাদের খুব পছন্দের শিল্পী৷ কাজ করার জন্য মুখিয়ে থাকত৷ এগুলোর প্রমাণ তো নেই৷ এগুলো তাই এখন বলতেও চাইছিলাম না। আগে তদন্তের রিপোর্ট আসুক৷"














